খুশকি মুক্ত চুল পেতে যা করণীয়!

আসসালামুআলাইকুম। আশা করি সবাই মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও করুণায় ভালোই আছেন? আলহামদুলিল্লাহ আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় ও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। প্রথমেই একটু বক বক করে নেই। নয়তো আবার পরে আফসোস করবো এই বলে যে, আহারে! সবাইকে তো টিপস শেয়ার করলাম কিন্তু মনের কথাটা মনেই থেকে গেল? তাহলে ব্লগইন করে মজাটাই বা কি হলো বলুন? তো আজ আমার শরীরটা বেশ ভালো তবে মনটা একটু খারাপ! কেন জানেন?...    তারিখঃ ০৭/০৪/২০১২  |  সবটুকু পড়ুন »
Showing posts with label Health. Show all posts
Showing posts with label Health. Show all posts

Friday, August 10, 2012

ঘুমঃ যে কারণে উপকারী !

যান্ত্রিক জীবনের অতি ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় নেই অনেকের। অথবা হয়তো অনেকেই রাতের পর রাত ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের সামনে বসে পার করছেন। সকাল থেকে আবার পড়াশোনা বা অফিসের কাজ। ঘুমানোর অতো সময় কোথায়! কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম জীবনের জন্য, শরীরের জন্য, সুস্থতার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। রাতের নির্বিঘ, গভীর ঘুম পরদিন মানুষকে চনমনে রাখে, দিন শুরু হয় নতুন শক্তিতে, নতুন উদ্দীপনায়। এসব আমরা জানি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পাশাপাশি ঘুমের আরও কিছু উপকারিতার কথা বলছেন, যেগুলো একটু অন্যরকম ও নতুন শোনালেও তা গবেষণা থেকেই পাওয়া।



গবেষকরা বলছেন, যারা কম ঘুমায়, তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। দেখা গেছে, যারা রাতে মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমায় তাদের দেহে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন বেশী নিঃসৃত হয়। এ নিঃসরণের পরিমাণ যারা ৮ ঘন্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে ১৫% বেশী। একই সাথে ক্ষুধা কমানোর হরমোনটিও কম নিঃসৃত হয়। বেশী ক্ষুধার কারণে এরা বেশী খায়, ফলে বেড়ে যায় তাদের বডি মাস ইনডেক্সও। তাই, ‘স্লিম ফিগারে’র জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম।

পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক দল ব্যক্তিকে পিয়ানো বাজানো শিখিয়ে তাদের দুই গ্র“পে ভাগ করে দেন। এক গ্র“প শেখার পরবর্তী ১২ ঘন্টা ঘুমায়, অপর গ্র“প এই ১২ ঘন্টা জেগে থাকে। পরবর্তীতে দেখা যায়, যারা ঘুমিয়েছিল, তারা পিয়ানোতে সঠিক সুরটি তুলতে বেশী পারঙ্গমতা দেখিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন, এ সময় অন্য কোন তথ্য বা কাজ তাদের ব্রেনকে ব্যস্ত না রাখায় শেখা সুরটি স্মৃতিতে ভালভাবে গেঁথেছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সুনিদ্রা প্রয়োজন। যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, তখন দেহে ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্যান্সার-প্রতিরোধী এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও। দেখা গেছে, যেসব মহিলা রাতে কাজ করেন, তাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ৭০ গুণ বেশী। এছাড়া রাতের পর রাত জেগে থাকা মানুষের গ্যাস্ট্রিক আলসারের সম্ভাবনাও বেশী থাকে। কারণ, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পাকস্থলীর কোষকে রক্ষা করে যে রাসায়নিক পদার্থ- তা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই বেশী নিঃসৃত হয়।


বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতেও ঘুমের ভূমিকা উল্লেখ্যযোগ্য। রাতের পর রাত নিদ্রাহীনতা বার্ধক্যজনিত রোগের তীব্রতা বাড়ায়। অপরদিকে, গবেষকরা দেখেছেন, যারা রাতে গড়ে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমায়, তারা সাড়ে চার ঘন্টার কম ঘুম যাদের, তাদের চেয়ে বেশীদিন বাঁচে।
অন্যদিকে, টিন এজারদের নিদ্রাহীনতা তাদের জীবন বিশৃংখল করে তুলতে পারে। এরা অন্যদের চেয়ে বেশী বিষণœতায় ভোগে ও কম আত্মবিশ্বাসী হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, যারা ছোটবেলায় নিদ্রাহীনতায় ভোগে, তাদের বয়ঃসন্ধিকালে মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ।
তাই, জীবনকে অতি ব্যস্ততায় জড়িয়ে না ফেলে নিজের বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন, পর্যাপ্ত সময় ঘুমান। যাপন করুন সুস্থ, নীরোগ, দীর্ঘ জীবন
»» Read more

Saturday, August 4, 2012

অ্যাপেন্ডিক্সঃ কী , কেন , কীভাবে?

আমাদের শরীরের বৃহদান্ত্রের শুরুতেই একটি ছোট্ট কৃমি আকৃতির অঙ্গের নাম ভারমিফরম অ্যাপেন্ডিক্স। আকার এবং আকৃতিতে এটি বৈচিত্র্যময়। এটি ২-২০ সেন্টিমিটারের মতো লম্বা হয়। শরীরে এর কোনো কাজ নেই।এর অবস্থান পেটের নিচের দিকে ডান পাশে। ভেতরটা ফাঁকা। কাজেই কৃমি, মল, পাথর-এ জাতীয় কোনোকিছু ঢুকে গেলে সহজে বের হতে পারে না। তাছাড়া সামান্য প্রদাহে গহ্বরটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই অ্যাপেন্ডিক্সের ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হলে তাকে বলে অ্যাপেন্ডিসাইটিস, যাতে অ্যাপেন্ডিক্স ফুলে ওঠে এবং ব্যথার জন্ম দেয়।




রোগের উপসর্গঃ
• প্রাথমিকভাবে নাভীর চারদিকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরে ব্যাথা তলপেটে ডান দিকে (নাভী ও কোমরের হাড়ের মাঝামাঝি জায়গা) স্থায়ী হয়।
• পেট শক্ত হয়ে যায়।
• বমি হতে পারে।
• জ্বর হতে পারে তবে সাধারণত অতি উচ্চমাত্রায় নয়

রোগ নির্ণয়ঃ
• রোগীর রোগ বৃত্তান্ত এবং শারীরিক পরীক্ষার দ্বারা
• এই রোগটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট বা আলট্রাসনোগ্রাম করার প্রয়োজন নেই।
• তবে চিকিৎসক যদি সন্দেহাতীত না হন তাহলে প্রস্রাব পরীক্ষা, পেটের এক্স-রে এমনকি তলপেটের আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য বলতে পারেন।

চিকিৎসাঃ
• এ রোগের একমাত্র চিকিৎসা অপারেশন। কোনো ওষুধে বা অ্যান্টিবায়োটিকে এ রোগ সারে না। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা দেখা দিলে অপারেশন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই করতে হয়। না হলে অ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। ২৪ ঘণ্টায় অপারেশন না করালে মৃত্যুঝুঁকি প্রতি হাজারে ১ জন। আবার ফেটে যাওয়ার পর অপারেশন করালে মৃত্যুঝুঁকি প্রতি হাজারে ২০ জন। আর ফেটে যাওয়ার আগে-পরে অপারেশন না করালে মৃত্যুঝুঁকি প্রতি হাজারে প্রায় ৫০০ জন।


অপারেশনের পর সমস্যাঃ
• অ্যাপেন্ডিক্সের কাজ এতোই নগণ্য যে, এটি কেটে ফেললেও শরীর তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। স্বাভাবিক কাজকর্ম করা সম্ভব। খাওয়া-দাওয়াতেও কোনো ধরনের সমস্য হয় না।

সূত্রঃ জাতীয় ই-তথ্য কোষ
»» Read more

স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়ঃ লেবুর শরবত !

লেবু হল সাইট্রাস লিমন (Citrus lemon) সাধারণ নাম। বংশবৃদ্ধিকারী টিস্যু আবৃতবীজী লেবুর বীজকে ঘিরে রাখে। লেবু রান্না করে বা রান্না না করে - উভয়ভাবেই খাওয়া হয়। ফল এর কদর মূলত রসের জন্যেই , যদিও এর শাঁস ও খোসাও ব্যবহৃত হয়, প্রধানত রান্না ও বেকারির কাজে। লেবুর রসে প্রায় ৫ শতাংশ (প্রতি লিটারে ০.৩ মোলের কাছাকাছি) সাইট্রিক এসিড থাকে যার কারণে এর স্বাদ টক হয় এবং pH ২-৩ হয়।


লেবুর অনেক গুণ। লেবুর শরবত একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়। মাত্র একটি মাঝারি আকৃতির লেবু থেকে চল্লিশ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড পাওয়া যা একজন মানুষের দৈনিক চাহিদার পূরণের জন্য যথেষ্ট। ভিটামিন ‘সি’ দেহের রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলোর কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। শরীরের কোনো অংশ কেটে গেলে বা ক্ষত হলে দ্রুতগতিতে কোলাজেন কোষ উপাদান তৈরি করে ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে এই ভিটামিন ‘সি’। লেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সাইট্রিক এসিড বিদ্যমান যা ক্যালসিয়াম নির্গমন হ্রাস করে পাথুরী রোগ প্রতিহত করতে পারে। লেবুর খোসার ভেতরের অংশে ‘রুটিন’ নামের বিশেষ ফ্ল্যাভানয়েড উপাদান আছে যা শিরা এবং রক্তজালিকার প্রাচীরকে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং সুরক্ষা দেয়। ফলে স্বভাবতই হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। লেবুর অন্যান্য ব্যবহারও কম নয়। রান্নায় বা আহারে লেবুর ব্যবহার বিজ্ঞানসম্মতভাবেই স্বাস্থ্যপ্রদ। ত্বক বা রূপচর্চায় লেবুর ব্যবহার ঐতিহ্যগত ভাবেই সুপ্রচলিত। বয়সজনিত মুখের স্পট বা দাগ সারাতে লেবুর রস যথেষ্ট কার্যকরী। লেবুর রস ব্যবহারে মুখের ব্রণও দ্রুত সারে। বাজারের ভেজাল মিশ্রিত পানীয় না খেয়ে টাটকা লেবুর রসের সাথে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে লেমোনেড তৈরি করা হয় যা একই সাথে তৃষ্ণা মেটায়।



লেবু শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও এর নানা প্রকার উপকারী দিক দেখা যায়। এর প্রভাবে যেমন আমাদের পুষ্টি পরিপূর্ণ হয় তেমনি আমাদের ত্বকের ওপরে বা সৌন্দর্যের দিকটিও এর ওপরে নির্ভর করে।
লেবু টক, মিষ্টি নানারকম স্বাদের হয়ে থাকে। ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকার জন্য লেবু আমাদের স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য উভয় দিকেই বেশ কার্যকরী প্রভাব বিস্তার করে থাকে। তাই—

— ঘুম থেকে উঠে লেবুর পানি খেলে পেট পরিষ্কার হয়।

— যদি কারও বমির সমস্যা থাকে তবে লেবু সেক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করে।

— লেবুর পানি পান করলে শারীরিক দিক থেকে আপনি তরতাজা অনুভব করবেন।

— লেবু খেলে শারীরিক অস্বস্তি দূর হতে পারে।

— মোটা হওয়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন নিয়মিত লেবু খাওয়ার অভ্যাস করলে।

— রক্ত পরিশুদ্ধ করতে লেবু খুব উপকারী।

— লেবু লিভারের বিকৃতির সমস্যার সমাধান করে থাকে।

— লেবুর পানি দিয়ে নিয়মিত কুলকুচি করলে দাঁতের সমস্যার সমাধান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়।

— দুধের মধ্যে লেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগালে তা ত্বক পরিষ্কার, টানটান এবং মসৃণ করে তোলে। এটি ত্বক পরিষ্কার করতেও ব্যবহার করা যায়।

—অর্ধেক লেবু এবং এক মুঠো খাবার সোডা মিশিয়ে তা বাসন মাজার কাজে বা কোন অপরিষ্কার নল ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

— প্লাস্টিক বা হাল্কা রংয়ের বাসনে খাবারের দাগ ধরে গেলে সেখানে লেবু ঘষে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর তা ধুয়ে নিলে বাসনে আর খাবারের দাগ লেগে থাকবে না।
»» Read more

Monday, June 4, 2012

মাথা নষ্টঃ শুঁটকির এত পুষ্টিগুণ !


undefined

রুচিবর্ধক খাবারগুলোর মধ্যে শুঁটকি মাছ অন্যতম। প্রচুর পরিমাণে রৌদ্রে শুকানো হয় এই মাছ। তাই এতে ভিটামিন ‘ডি’-এর পরিমাণ রয়েছে পর্যাপ্ত অনুপাতে। ভিটামিন ‘ডি’ হাড়, দাঁত, নখের গঠন মজবুত করার জন্য যথেষ্ট জরুরি।

শরীরে ভিটামিন ‘ডি’-এর অভাবে ছোটদের রিকেটস নামের হাড়ের অসুখ হয়। রিকেটস হলে শিশুদের লম্বা হাড়ের গঠনে দুর্বলতা ও সমস্যা থাকে। হাড় হয়ে যায় ভঙ্গুর। এই একই সমস্যা বড়দেরও হয়। বড়দের ক্ষেত্রে একে আমরা বলি অস্টিওম্যালাসিয়া।

এই অসুখগুলো দূর করতে শুঁটকি মাছের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের জন্য উপকারী অনেক রকম খনিজ লবণ রয়েছে এই মাছে। খনিজ লবণ আমাদের রক্তশূন্যতা দূর করে, দাঁতের মাড়িকে করে দৃঢ়।

এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার আমিষ বা প্রোটিন ও কোলেস্টেরল। যাঁরা কঠোর দৈহিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের জন্য এটি যোগ্য খাবার। আর যাঁরা বয়স অনুযায়ী অতিরিক্ত মোটা, রক্তে নিপিড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি, তাঁরা শুঁটকি মাছ খাবেন না। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য ভীষণ উপকারী। তবে সবাই হজম করতে পারে না। আপনার শিশুর হজমশক্তি বুঝে, প্রথমে অল্প করে খাওয়ানোর অভ্যাস করতে পারেন।

সম্প্রতি গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত শুঁটকি মাছ খায় এমন ব্যক্তিদের ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বর, যক্ষ্মা এই অসুখগুলো সহজে হয় না। তবে অতিরিক্ত ধূমপান বা যেকোনো প্রকার মাদকদ্রব্য যক্ষ্মার জন্য সহযোগী হিসেবে কাজ করে।

কিডনি, পিত্তথলি বা গলব্লাডারে পাথর, ইনফেকশনসহ যেকোনো জটিলতার জন্য শুঁটকি মাছ বাদ দিন। কারণ, এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন। লিভার, কিডনি, পিত্তথলিতে সমস্যা থাকলে শুঁটকি মাছের উচ্চমাত্রার প্রোটিন হয়ে যাবে দেহের জন্য হুমকিস্বরূপ। কারণ এই অঙ্গগুলো দুর্বল হলে এরা উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না। জন্ডিস, লিভার সিরোসিস, ফ্যাটি লিভারের রোগীরাও এই মাছ বাদ দিন।

গর্ভস্থ ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা, বাড়ন্ত শিশু, খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী, ব্যায়ামবিদ, সাঁতারু এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য শুঁটকি মাছ যথেষ্ট উপকারী।

এতে আয়রন, আয়োডিনের মাত্রা বেশি থাকার জন্য দেহে রক্ত বাড়ায়, দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে শক্তিশালী, শরীরের হরমোনজনিত সমস্যাকে রাখে দূরে।

শুঁটকি মাছ দেহে লবণের ঘাটতিও পূরণ করে। তাই দূর হয় দুর্বলতা। কিন্তু এই মাছ উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ার জন্য হূদেরাগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের রোগীদের জন্য বর্জনীয়।
»» Read more

কি করবেন যখন লিফটের তার ছিঁড়ে গেল হঠাৎ !!!!

ধরুন, আপনি ৩০ তলা থেকে নামছেন, হঠাৎ লিফটের তার ছিঁড়ে গেল। হু হু করে নিচে নামছে লিফট।




  • ৪ সেকেন্ড এর একটু পরই আপনার বেগ হবে = ৪০মি/সে।
  • আপনার ওজন ধরে নেয়া যাক = ৬০ কেজি।
  • তাহলে ভরবেগ = (৬০*৪০) কেজি মি/সে = ২৪০০ কেজি মি/সে।
  • মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ = ৯.৮ মি/সে ^ ২

অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ভরবেগ বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ লিফট টা যখন মাটিতে আঁছড়ে পড়বে তখন আপনার ওজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ধাক্কা খাবেন। এমন কি আপনার মাথার ওজনের চাপে ঘাড় ভেঙ্গে যাবে। পা ভাজ করে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেও লাভ হবে না। কারণ পড়ন্ত শরীরের প্রচণ্ড ভরবেগ পা সইতে পারবে না। লাফ দিয়ে শুন্যে অবস্থানের চেষ্টাও বৃথা। কারণ ঠিক কখন লিফট মাটিতে পড়বে টা বোঝা মুশকিল।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে লিফটের মেঝেতে সটান শুয়ে পড়া, যেন শরীরের চাপ সবচেয়ে বেশি ছড়ানো অবস্থানে পড়ে এবং শরীরের কোন অংশকে যেন অন্য কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাপ সইতে না হয়।
»» Read more

Friday, June 1, 2012

নিয়মিত হাটুঁন এবং সুস্থ্ থাকুন !

বিসমিল্লাহির রহমানীর রাহীম
আশা করি সবাই মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও করুণায় ভালোই আছেন। আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি। তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ভালো নেই। কেননা কারো কারো রয়েছে নানান জটিল সমস্যাবলি। যেমন ধরুন কেউ ভুগছে শারিরীক সমস্যায় আবার কেউ বা মানসিক সমস্যায়। তবে সমসা যাই হউক সেটা তো সমস্যাই তাই নাহ? আর আমার মতে কখনো কোন সমস্যা নিজ দ্বায়িত্বে পুষে রাখা উচিত নয়। কেননা হয়তবা সেই সমস্যাই একদিন আপনার সামনে অনেক বড় রূপ নিয়ে হাজির হতে পারে? যাই হউক বরাবরের মতো স্বাস্থ্য নিয়ে লিখতে লিখতে আজও তার ব্যতিক্রম করলাম না। সব ঝামেলা আর ভোগান্তি পেরিয়ে অবশেষে আপনাদের জন্য লিখতে বসে গেলাম আরেকটা সচেতনামূলক ব্লগ পোষ্ট। আমি আজ যে বিষয় নিয়ে লিখছে বসেছি তার শিরনাম দেখে আপনারা যে আগেই বুঝে গেছেন সেটা আমি অনেক আগেই টের পেয়েছি ...
তো এবার আসুন আমার ভাষণ শেষ করে এইবার কাজের কথায় আসি কেমন..

 

নিয়মিত হাঁটাঃ

হুমম হাঁটা ! যেন এটা আজ আমাদের কাছে হয়ে উঠেছে একটা অসহ্যকর ব্যাপার। এটা স্বাভাবিক ভাবেই যে আমরা একটু আরামপ্রিয় ব্যক্তি। অন্তত বিশেষ করে আমি। হেহে যাই হোক তো হাঁটার নাম শুনলেই যেন আমাদের মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। কেন জানেন? অনেকে বলে থাকেন আহহ  :D এত দূর হেটে যাবো? উফফ রোদ ! পা ব্যাথা করছে ইত্যাদি ইত্যাদি নানান অজুহাত হাঁটা থেকে বাঁচার জন্য আমাদের। ব্যাপারটা আসলেই স্পষ্ট যে অনেকেই হাঁটা এড়িয়ে চলেন। অনেকে আবার বলে থাকেন : আরে মিঞা ! এইডা টেকু মামার যুগ .. এই যুগে তুমি আমারে কও হাটবার? মিঞা তোমার কি মাথা খারাপ হইয়া গেছে নাকী? যাই হোক বা যে যাই বলুন এটা কিন্তু আমরা কখনো অস্বীকার করতে পারবো না যে হাঁটা আমাদের দেহের জন্য কতখানি উপকারী। এটা যেমন আমাদের দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে তেমনি ভাবে আমাদের অলসতা থেকেও রেহাই দেয়। আর এই গুরুত্বপূর্ণ হাটা সম্পর্কে বেশ কিছু উপকারী দিক সমূহ আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবো।




হাঁটার উপকারীতা সমূহঃ

  • ব্রেইন এবং হার্ট এ্যাটাকের ঝুকি কমে যায়।
  • নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসের মাধ্যমে শরীরের অনেক পরিমান ওজন কমানো সম্ভব।
  • বুকের ব্যথা এবং বুক ধরফর করা থেকে আরাম পাবেন।
  • নিয়মিত হাঁটলে শরীর ক্লান্ত হয় বিধায় খুব ভাল ঘুম হয়।
  • হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় ও ক্ষুধা বাড়ায়।
  • নিয়মিত হাটলে উক্ত চামড়াগুলো টানটান হয়ে বয়স কমিয়ে দেয়।
  • যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা নিয়মিত সকাল-বিকাল হেঁটে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন।
  • নিয়মিত হাঁটলে দেহের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়।
  • মানসিক টেনশন দূর হয়।
  • হাপানী রোগ খুব সহজেই নিয়ন্ত্রন করা যায়।
  • শরীর সবসময় তরতাজা থাকে।
  • মাইগ্রেইন বা অর্ধমাথা ব্যাথা দূর হয়।
  • ডায়াবেটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় ও রোগ থাকলে নিয়ন্ত্রনে থাকে।
  • প্রতিদিন ১ ঘন্টা হাঁটলে শরীরের চর্বি কমে যায়।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়।
  • আঙ্গুল পচা, গ্যাংগ্রিণ ইত্যাদি জাতীয় রোগ হয় না বা কম হয়।
  • চেহারায় সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
  • যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায় ও যৌবনকাল দীর্ঘায়িত হয়।
  • হার্ট ভাল থাকে এবং হার্টে ব্লক হওয়ার সম্ভাবনা দূর করে।
দেখলেন তো হাঁটার কত উপকারীতা .. কি ভাবছেন? এখন থেকে সব সময়ই হেটে যাবেন? হেহে তা কেন করতে যাবেন ভাই? কথায় আছে না অতিরিক্ত কোন জিনিষই ভালো না। তেমনি ভাবে অতিরিক্ত হাটা হাটি করলেও আপনি অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। যেমন ধরুন দুপুরে বিশ্রাম না নিয়ে আপনি Sun Bath করতে বের হলেন? ফলাফল? শূন্য। তেমনি ভাবে আপনি যদি দুপুরে বিশ্রাম নিয়ে বিকালে হাঁটতে বের হন তাহলে তখন সেই রোমান্টিক আবহাওয়াতে আপনার শরীরের পাশাপাশি মনটাও সতেজ হয়ে উঠবে। সুতরাং আর দেরী কেন? আসুন সবাই মিলে ভোর - বিকেলে নিয়মিত ১-২ ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলি। যাতে উপকৃত হব আমরা নিজেই।
যদি কারো উপকারে আসে তাহলেই আমার পরিশ্রম সার্থক ! সবাইকে ধন্যবাদ ..
- মোঃ আব্দুর রহিম

»» Read more

Wednesday, May 30, 2012

টক দই খাওয়ার উপকারিতা !

টক দই অনেকেই পছন্দ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে ভিন্নতাও রয়েছে। অনেকে টক দই খেতে পছন্দ করেন না কেননা তাতে মিষ্টি বলতে কোন স্বাদ থাকে না। কিন্তু টক দই এর অনেক উপকারীটাই আমাদের অনেকের অজানা। আর তা জানাতেই আজ এই পোষ্ট :


  •  টক দই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়| ঠান্ডা লাগা , সর্দি ও জ্বর না হওয়ার জন্য এটি ভালো কাজ করে
  •  টক দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায় বা ঠিক রাখে।
  • টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক তাই এটি পাকস্থলীর জ্বালাপোড়া কমাতে বা হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
  • টক দই হাড় ও দাঁতের গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে ।
  •  কম ফ্যাট যুক্ত টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল কমায়।
  •  টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজে হজম হয়, এটি দুধের চেয়ে অনেক কম সময়ে হজম হয়। তাই যাদের দুধের হজমে সমস্যা তারা দুধের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন।
  •  টক দই রক্ত শোধন করে।
  •  উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
  •  ডায়বেটিস, হার্টের অসুখ এর রোগীরা নিয়মিত টক দই খেলে এসব অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।
  •  নিয়মিত টক দই খেলে তা অন্য খাবার থেকে পুষ্টি নিয়ে শরীরকে সরবরাহ করে ।
  •  টক দইয়ে আমিষ থাকে, যেহেতু আমিষ হজম হতে সময় লাগে, তাই পেট ভরা বোধ হয় ও শক্তি পাওয়া যায় | অতিরিক্ত খাবারও খেতে ইচ্ছা করে না।
  •  এর পুষ্টি উপাদানগুলো হজমের সময় তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয়ে দ্রুত শরীরকে শক্তি দেয়।
  •  টক দই শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে | তাই গ্রীষ্মকালে টক দই খেলে ভালো।

»» Read more

লেটুসপাতার নানান উপকারীতা !

আমাদের দেশে সালাদের বাটিতে একটি পরিচিত নাম লেটুসপাতা। এ পাতার অনেক গুণাবলী রয়েছে যেমন:


  • হাঁচি, কাশি, কফ, হাঁপানি ও ফুসফুসের ইনফেকশন দূর করে লেটুসপাতা।
  • কিডনির সমস্যার জন্য যেসব রোগীর প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় তাদের জন্য লেটুসপাতা ভীষণ উপকারী।
  • হাত-পা ফুলে যাওয়া, কিডনির পাথর, কিডনির কার্যহীনতা মূত্রথলির ইনফেকশন ও কিডনিতে ব্যথা_ এ অসুখগুলোয় লেটুসপাতা যথেষ্ট জরুরি।
  • ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এই পাতা আশীর্বাদস্বরূপ। রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে ও ডায়াবেটিক রোগীর দেহের বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি নিরাময়ে সাহায্য করে। কাঁচা বা ভাজা লেটুসপাতা সালাদ রক্ত পরিষ্কার করে হৃদপিন্ডের শিরা-উপশিরার দেয়ালে চর্বি জমাতে বাধা দেয় এবং রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।
  • পাকস্থলী ও খাবার হজমকারী অন্যান্য অঙ্গের ওপর রয়েছে এর যথেষ্ট ইতিবাচক প্রভাব।
  • গর্ভবতী মায়ের কাঁচা লেটুসপাতা খেলে মা ও শিশু উভয়ের শরীরেই রক্তের মাত্রা বাড়ে। এতে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ার জন্য মোটা ব্যক্তিদের চর্বি ও ওজন কমায়।
  • চোখের ইনফেকশনজনিত সমস্যায় (যেমন চোখ ওঠা) একা বা দুই লিটার পানির সামান্য লেটুসপাতা (৫০ গ্রাম) প্রায় ছয় মিনিট ফুটিয়ে সেই পানিতে চোখ ধুলে চোখ ওঠা দ্রুত ভালো হয়। চোখের অতিরিক্ত পরিশ্রমের ওপর এ ফোটানো পানি ঠান্ডা করে ব্যবহার করলে চোখের ক্লান্তি দূর হয়।
  • খুশকির বিরুদ্ধেও কাজ করে। অনেক শ্যাম্পুতে লেটুসপাতার গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় রৌদ্রে থাকলে ত্বকে কালচে পোড়া ভাব হয়। লেটুসপাতা থেতলে ত্বকে দিলে ত্বকের উপকার হয়।
  • এ পাতার ক্ষতিকর দিক হলো, দ্রুত নষ্ট হয়। তাই টাটকা থাকতেই খেয়ে নেয়া ভালো।
»» Read more

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমার ১০টি প্রধান কারণ !

আজ বেশ অন্য একটু বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। আশা করি উপকারে আসবে ..


  • সকালের নাস্তা সময়মত না খাওয়া যার ফলে রক্তে সুগারের পরিমান হ্রাস পায় এবং ব্রেইন সঠিক পুষ্টি পায় না।
  • অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস, যা আপনার ব্রেইনের এর রক্তনালীকে শক্ত করে তার কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
  • ধুমপান, কোন সন্দেহ নেই ধুমপান ব্রেইন এর ক্ষমতা হ্রাস করে। এমন কি আলজেইমার রোগেরও কারন।
  • অতিরিক্ত চিনি খাওয়া ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর।
  • বায়ু দূষণ, আমরা প্রশ্বাসের সাথে যে অক্সিজেন গ্রহন করি তার প্রায় ৩৫ ভাগই আমাদের ব্রেইনের কাজে খরচ হয়। সুতরাং দূষিত বায়ুতে আক্সজেনের স্বল্পতার কারনে আমাদের ব্রেইনেও কম অক্সিজেন যাবে। এতে ব্রেইনের দক্ষতা কমে যায়।
  • ঘুমের সমস্যা, ঘুম মানে হচ্ছে ব্রেইনের বিশ্রাম। সুতরাং যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতাও কম হবে।
  • মাথা ঢেকে ঘুমানো মস্তিষ্কের জন্য খারাপ। কারন তখন গৃহীত বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমান বেশী থাকে।
  • অসুস্থ অবস্থায় মাথার কাজ করাও ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর। অসুস্থ অবস্থায় ব্রেইনে বিশ্রাম দরকার।
  • বিশ্লেষণধর্মী বা যুক্তি নির্ভর চিন্তা ভাবনা আমাদের ব্রেইনের কার্যক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করে। যারা এধরনে চিন্তা কম করেন তাদের ব্রেইন তুলনামূলক কম দক্ষ হয়ে থাকে।
  • বিশ্বাস করুন আর নাই করুন খুব কম কথা বলা মস্তিকের সঠিক বিকাশের জন্য ভালো নয়।
»» Read more

Saturday, May 26, 2012

চোখ দিয়ে পানি পড়া স্বাভাবিক নয় !

স্বাভাবিক চোখ সবসময় একটু ভেজা থাকে। অতিরিক্ত পানি চোখের ভেতরের কোনায় অবস্থিত নল (নেত্রনালী) দিয়ে নাকে চলে যায় এবং শোষিত হয়। কোনো কারণে চোখে অতিরিক্ত পানি তৈরি হলে, অথবা নেত্রনালী বন্ধ হয়ে গেলে চোখের পানি উপচে পড়ে, একে লেক্রিমেশন বা এপিফোরা বলে।

শিশুর জন্মের পর পর যদি নেত্রনালী বন্ধ থাকে, সেক্ষেত্রে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত এক বছরের মধ্যে  আপনি আপনিই নেত্রনালী খুলে গিয়ে পানি পড়া ভাল হয়ে যায়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর প্রদাহজনিত কারণে নেত্রনালী সরু হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এক্ষেত্রে নেত্রনালীতে ইনফেকশন হয়ে পূঁজ জমতে পারে। চোখের ভেতরের কোনায় চাপ দিলে পানি ও পূঁজ বের হতে পারে। বয়স্ক লোকের নেত্রনালী বয়সজনীত পরিবর্তনের কারণে সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বয়সের কারণে চোখের চারদিকের মাংশপেশী  দুর্বল হবার কারণেও নেত্রনালী অকার্যকর হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে। এছাড়াও নেত্রনালীর সমস্যা ছাড়াও চোখের এলার্জি, চোখ ওঠা রোগ, গ্লুকোমা, কর্নিয়ার ঘা, চোখের  আঘাত ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে যে কোনো বয়সে চোখ দিয়ে পানি পড়তে পারে। অতিরিক্ত সর্দি হলে নাকের প্রদাহের কারণে নেত্রনালীর ছিদ্র মুখ বন্ধ হয়ে চোখ হতে পানি পড়তে পারে।




শিশুদের ক্ষেত্রে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে চোখের কোনায় মালিশ এবং এন্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহারে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পানি পড়া বন্ধ হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রোবিং সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হয়। তরুণ বয়সে নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি পড়লে নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে এন্টিবায়োটিক ড্রপ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক/ স্টেরইড এর মিশ্রণ ব্যবহার করলে এ সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হয়। চোখে জমে থাকা পূঁজ চোখের কোনায় চাপ দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ওষুধে ভাল না হলে ‘ডিসিআর’ অপারেশনের মাধ্যমে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব। বেশি বয়স্কদের নেত্রনালী সংকুচিত হওয়ার কারণে ডিসিআর অপারেশন করা সম্ভব হয় না।সেক্ষেত্রে ডিসিটি অপারেশন করা হয়। এক্ষেত্রে পূঁজ জমা বন্ধ হয়, কিন্তু পানি পড়া বন্ধ হয় না। যে সব বয়স্ক লোকের ছানিরোগ আছে, আবার তাদের যদি নেত্রনালীর সমস্যার কারণে চোখ হতে পানি ও পূঁজ পড়ে, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই ছানি অপারেশনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শে বয়সভেদে ডিসিআর অথবা ডিসিটি অপারেশন করতে হবে, না হলে  চোখের কোনায় জমে থাকা জীবাণু  ছানি অপারেশনের সময় চোখের ভেতরে ঢুকে মারাত্মক ইনফেকশন করতে পারে। নেত্রনালী সমস্যা ব্যাতিত অন্য কারণে পানি পড়লে সেই কারণ চিহ্নিত করে ডাক্তারের পরামর্শে তার চিকিত্সা করাতে হবে। বর্তমানে লেসার রশ্নির সাহায্যে চামড়া না কেটে অল্পসময়ে ডিসিআর     অপারেশন করা সম্ভব, ফলে অপারেশনের পরে চামড়ায় দাগ পড়ে না।
»» Read more

ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ ঠেকাতে !

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দেহে কতোগুলো পরিবর্তন আসে। সে পরিবর্তনের কোনো কোনোটা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় আর কোনো কোনো পরিবর্তন চট করে বোঝা যায় না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দেহের যে সব অঙ্গের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে তার অন্যতম হলো ত্বক।

ত্বকের উপর বয়সজনিত সব প্রভাবকে হয়ত প্রতিহত করা যাবে না, তবে বয়সজনিত কোনো কোনো প্রভাবকে একটু চেষ্টা করলে এবং সতর্ক হলে অবশ্যই বিলম্বিত করা যাবে। বয়স হলে ত্বকে কেনো পরিবর্তন দেখা দেয় তার কারণ নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ আছে। একদল এ জন্য ডিপ্রোগামেটিক থিউরি একটি অনুসিদ্ধান্ত তুলে ধরেন অন্যদিকে অন্যেরা এস্টোকাস্টিক থিউরি নামের অপর এক অনুসিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।




প্রথম দল মনে করেন, বয়স হলে ত্বকের পরিবর্তনের ব্যাপারটি পূর্ব নির্ধারিত, দেহের অন্যান্য অঙ্গে যে সব পরিবর্তন ঘটে, দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে থাকে। তার এবং পূর্ব নির্ধারিত জেনেটিক কারণে ত্বকে তার প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে এস্টোকাষ্টিক থিউরির সমর্থকরা বলেন, পরিবেশ সূর্যালোক, জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন উপদানের প্রভাবে ত্বকে বয়সজনিত প্রভাব সৃষ্টি হয়।

ত্বকের এ ধরনের পরিবর্তনকে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দু'ভাগে ভাগ করেছেন। একটা হলো নির্ভেজাল বয়সজনিত পরিবর্তন আর অন্যটি হলো সূর্যালোকজনিত ত্বকের পরিবর্তন। তবে নির্ভেজাল বয়সজনিত পরিবর্তন প্রতিরোধ করা যাবে না। এ জাতীয় পরিবর্তন সবার বেলাই ঘটবে। এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে চুলের রং বদলে যায়, ঘন চুল পাতলা হতে থাকে। নখের রংয়ের পরিবর্তন ঘটে। একই সঙ্গে দেহের ঘামের গ্লান্ডসহ আর যেসব গ্ল্যান্ড থাকে তার সবগুলোর সংখ্যা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

আমাদের চামড়ায় রোগ প্রতিরোধের জন্য বিশেষ কোষরাজি বা সেল রয়েছে, রংয়ের জন্য বিশেষ কোষরাজি বা সেল রয়েছে, রয়েছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিশেষ চর্বি বা ফ্যাট আছে রক্তনালী সবগুলোর সংখ্যা কমে যায়। সূর্যালোকে যারা বেশি কাজ করেন বা থাকেন তাদের এ সব পরিবর্তন বেশি হয় কিন্তু যারা সূর্যালোক থেকে দূরে থাকেন তাদের এ জাতীয় পরিবর্তন কম হয়। ত্বকের এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে তার কর্ম দক্ষতা হ্রাস পেতে থাকে। ত্বকের মাধ্যমে দেহের অপ্রয়োজনীয় পর্দাথের নির্গমন বাধাগ্রস্ত হয়, চর্বি হ্রাস পাওয়ার ফলে ত্বকের আঘাত প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে।

এ ছাড়া এ কারণে কেটে গেলে বা পুড়ে গেলে ভালো হতে সময় নেয়। ত্বকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো তাপ নিয়ন্ত্রণ সে ক্ষমতা হ্রাস পায় বলে অতি গরম বা শীতের কারণে বৃদ্ধরা বেশি প্রাণ হারায় বলে দেখা যায়। সূর্যের আলোয় বেশি থাকার ফলে ত্বকে যে সব ক্ষতি হয় তার মধ্যে দেহের যে সব স্থান সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে সে সব স্থান কালো কালো দাগ হয়। কখনো কখনো সাদা দাগ পড়তে দেখা দেয় বা ভিন্ন কোনো রং দেখা দিতে পারে। ত্বকটা বুড়িয়ে যায়। ত্বকের কোথাও কোথাও আঁচড়ের মতো দাগ দেখা দেয়। ত্বকের নমনীয়তা হ্রাস পায়। ত্বক পাতলা হওয়ার ফলে রক্তনালীগুলো দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। যা দেহের সৌন্দর্য হ্রাস করে। কোনো ক্ষেত্রে ব্রণও হয়। রোদে বেশি থাকলে ত্বকে ক্যান্সার সহ নানা রোগ দেখা দিতে পারে।

সূর্যালোকজনিত যে পরিবর্তন তা রোধ করতে হলে অন্যাবশ্যক সূর্যালোকে যাওযা বন্ধ করতে হবে। আর সূর্যের আলোতে যাওয়ার জন্য আমরা সান স্ক্রিন ব্যবহার করি তাহলে এ আলোর ক্ষতিগুলো অনেকটা প্রতিহত করতে পারবো। একই সাথে বয়সজনিত পরিবর্তন প্রতিহত করা যাবে না। তবে ত্বকের এ জাতীয় পরিবর্তন সুষম খাদ্য, ভিটামিন গ্রহণ এবং ত্বকের যত্নের মাধ্যমে বেশ বিলম্বিত করা যেতে পারে।

রেডিনয়েড এসিড জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যেতে পারে। এ জাতীয় উপাদন ত্বককে কর্কশ হওয়া প্রতিরোধ করে। ত্বকের রং পরিবর্তন প্রতিহত করে। ভিটামিন এ জাতীয় খাবার এবং কৃত্রিম ভিটামিস এ বা রেডিনয়েড এসিড গ্রহণ করলে আমরা উপকার পাবো। ল্যাকটিক এসিড এবং আলফা হাইড্র সিয়াসিকও ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টক জাতীয় খাদ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে আখের রস থেকে গ্লাইকোলিক এসিড নামে একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পাওয়া যেতে পারে।

ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই ব্যবহার করে দেহের জারণ ক্রিয়ার গতি হ্রাস করা যায়। যা ত্বক নয় দেহের অন্য সব অংশেও সু প্রভাব ফেলবে।
»» Read more

Saturday, May 12, 2012

অশ্লীল ছবি দেখার ফলে নারীদের অন্ধ হওয়ার আশঙ্কা !

মাত্রাতিরিক্ত পর্নো ছবি দেখার ফলে নারীদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নতুন একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে পর্নো ছবি দেখার ফলে সুস্থ নারীদের দর্শনেন্দ্রিয়ের রক্ত প্রবাহ হ্রাস পায়। এর ফলে তাদের দৃষ্টিশক্তি ব্যাহত হতে পারে। নেদারল্যান্ডসের ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিনজেন মেডিকেল সেন্টারের ইউরোনিউরোলজিস্ট ডা. গার্ট হোলস্টেজে বলেছেন, সমীক্ষার ফলাফলে ধারণা করা হচ্ছে আপত্তিকর দৃশ্যসংবলিত এসব ছবি দেখার সময় নারীদের চোখে আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় যৌন উদ্দীপনা দেখা দেয়।



এ মাসের জার্নাল অব সেক্সচুয়াল মেডিসিনে প্রকাশিত ফলাফলে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মোট তিন ধরনের ছবি দেখানো হয়েছিল। একটি ক্যারিয়ান সাগরের প্রাণীর ওপর তথ্যচিত্র, একটি হালকা পর্নো ছবি এবং একটি একেবারেই খোলামেলা পর্নো ছবি। ছবি দেখানোর পর এসব নারীর মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে একেবারে খোলামেলা পর্নো ছবি দেখার সময় নারীদের দর্শনেন্দ্রিয়ে রক্ত প্রবাহ কমে গেছে। সুতরাং নারীরা সাবধান!
»» Read more

চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত সুরক্ষার গোপন রহস্য!

অনেকেই তার নিজের চুল, ত্বক, নখ, দাঁত ও মেদ নিয়ে ভাবেন। ভাবে, তার ত্বক যদি আরো মসৃণ ও সুন্দর, চুল যদি মেঘের মতো কালো, নখ আর দাঁত যদি আরো উজ্জল , শরীর যদি মেদহীন হতো। তাহলে  কতো ভাল লাগতো তাকে। তাদের জন্য এবার সুখবর !

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দৃষ্টিনন্দন ফল কামরাঙা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। কারণ এটা ভিটামিন সি-তে পূর্ণ। পাশাপাশি চুল, ত্বক, নখ ও দাঁতের সুরক্ষায় চমৎকার কাজ করে এই ফলটি । পাশাপশি অতিরিক্ত মোটা মানুষের দেহের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। গবেষকরা জানান, যারা নিয়মিত ভরা পেটে (অবশ্যই যাদের কিডনির কোনো অসুখ নেই) কামরাঙা খান, তাদের চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল, ভঙ্গুরহীন হয়। সমসাময়িক সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কামরাঙা।




তবে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ফল পরিহার করা উচিত সম্পূর্ণভাবে। আবার যাদের দীর্ঘ বছর ধরে ডায়াবেটিস ও হার্ট দুর্বল, তাদের জন্যও এই ফল বর্জনীয়। তাই বলে কামরাঙা পুষ্টিহীন এমন নয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের ভিটামিন এ এবং সি। যা বাড়ন্ত শিশুদের জন্য, খেলোয়াড়, অ্যাথলেটদের জন্য যথেষ্ট উপকারী। কামরাঙায় নেই কোনো চর্বি বা ফ্যাট। তাই এই ফল খেলে রক্তে চিনি বা চর্বি বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। এতে যে আঁশ রয়েছে তা কোষ্ঠকাঠিন্য, পাকস্থলীর ক্যানসার দূর করে। অতিরিক্ত টক লাগলে ডাল বা তরকারির সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই কেউ এই ফল খালি পেটে খাবেন না।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ফল ব্রণ হওয়ার পরিমাণ কমায়। এতে বিদ্যমান খনিজ লবণগুলো দাঁত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে। কিছু পরিমাণ জিংকও রয়েছে এতে। তবে অতিরিক্ত টক হওয়ার জন্য ডায়রিয়া চলাকালে বা ডায়রিয়া ভালো হওয়ার পরপরই এই ফল খাবেন না।
»» Read more

মধু বিষয়ক একটি পরিপূর্ণ পোষ্ট!

undefined

মধু একটি খুব উপকারী খাদ্য, পথ্য ও ঔষধ।জন্মের পর নানা দাদীরা মখে মধু দেয় নাই এমন লোক খুঁজে পাওয়া কঠিন । প্রাচীনকাল থেকে মানুষ প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে,মিষ্টি হিসেবে, চিকিৎসা ও সৌন্দর্যচর্চাসহ নানাভাবে মধুর ব্যবহার করে আসছে। শরীরের সুস্থতায় মধুর উপকারিতা অনেক।

আল কোরআনে আছে- আপনার পালনকর্তা মৌমাছিকে আদেশ দিলেন: পর্বতে, গাছে ও উঁচু চালে বাড়ি তৈরী কর,এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে খাও এবং আপন পালনকর্তার উন্মুক্ত পথে চলো। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্য রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে। (সূরা নাহলের ৬৮ ও ৬৯ নম্বর আয়াত)

এই আয়াত এটা স্পষ্ট যে মধু আমাদের জন্য কতখানি উপকারি।

মধু কি
মধু হচ্ছে একটি তরল আঠালো মিষ্টি জাতীয় পদার্থ, যা মৌমাছিরা ফুল থেকে নেকটার বা পুষ্পরস হিসেবে সংগ্রহ করে মৌচাকে জমা রাখে। পরবর্তীতে জমাকৃত পুষ্পরস প্রাকৃতিক নিয়মেই মৌমাছি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ মধুতে রূপান্তর এবং কোষবদ্ধ অবস্থায় মৌচাকে সংরক্ষণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে মধু হচ্ছে এমন একটি অগাজানোশীল মিষ্টি জাতীয় পদার্থ যা মৌমাছিরা ফুলের নেকটার অথবা জীবন্ত গাছপালার নির্গত রস থেকে সংগ্রহ করে মধুতে রূপান্তর করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু উপাদান যোগ করে মৌচাকে সংরক্ষণ করে।

মধুর ভৌত বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশের জাতীয় মধু বোর্ডের সংজ্ঞা অনুযায়ী "মধু হল একটি বিশুদ্ধ পদার্থ যাতে পানি বা অন্য কোন মিষ্টকারক পদার্থ মিশ্রিত করা হয় নাই।"মধু চিনিরচাইতে অনেক গুণ মিষ্টি। তরল মধু নষ্ট হয় না, কারণ এতে চিনির উচ্চ ঘনত্বের কারণে প্লাজমোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। প্রাকৃতিক বায়ুবাহিত ইস্ট মধুতে সক্রিয় হতে পারে না, কারণ মধুতে পানির পরিমাণ খুব অল্প। প্রাকৃতিক, অপ্রক্রিয়াজাত মধুতে মাত্র ১৪% হতে ১৮% আর্দ্রর্তা থাকে। আর্দ্রর্তার মাত্রা ১৮% এর নিচে যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ মধুতে কোন জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। পাস্তুরাইয্‌ড মধুতে মধুর প্রাকৃতিক ঔষধি গুণাবলী হ্রাস পায়।

মধুতে যা বিদ্যমানঃ
মধুতে প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদান থাকে। ফুলের পরাগের মধুতে থাকে ২৫-৩৭ শতাংশ গ্লুকোজ। ৩৪-৪৩ শতাংশ ফ্রুক্টোজ, ০.৫-৩.০ শতাংশ সুক্রোজ এবং ৫-১২ শতাংশ মন্টোজ। আরো থাকে ২২ শতাংশ অ্যামাইনো এসিড, ২৮ শতাংশ খনিজ লবণ এবং ১১ ভাগ এনকাইম। এতে চর্বি ও প্রোটিন নেই। ১০০ গ্রাম মধুতে থাকে ২৮৮ ক্যালরি।

আছে যত ধরনের মধুঃ
বিভিন্ন ফুল থেকে মধু হয় যেমন-সরিষা ফুল, লিচু, সুন্দর বন, কালজিরা থেকে আহরিত মধু। এ ছাড়া রয়েছে ধুনিয়া ফুল, গুজি তিল ও তৃষি থেকেও উৎপাদিত হয় মধু।প্রায় সব গুলুর গুনাগুন একই।

সবচেয়ে সেরা মধু
নিউজিল্যাণ্ডের মানুকা হানি বাজারে প্রাপ্য সকল মধুর চেযে বেশী চেযে ঔষধিগুণ সম্পন্ন গণ্য করা হয়। মানুকা নামীয় একপ্রকার ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদের ফুল থেকে উৎপন্ন মধু "মানুকা হানি" নামে পরিচিত।

মধুর ব্যাবহার
আধুনিক চিকিত্সাবিদ্যার জনক নামে পরিচিত হিপ্পোক্রেটস শরীরের প্রদাহ ও সিফিলিস রোগের চিকিত্সায় মধু ব্যবহার করতেন বলে কথিত আছে। ২ হাজার বছর আগেও যখন চিকিত্সা বিজ্ঞান আজকের মতো এতটা উন্নত ছিল না, তখনও মানুষ জানত মধুর কী গুণ! গ্রিক অ্যাথলেটরা অলিম্পিকে অংশগ্রহণের আগে প্রচুর পরিমাণ মধু সেবন করত শক্তি বাড়ানোর জন্য। তাদের ধারণা ছিল, মধু খেলে তাদের পারফরমেন্সের উন্নতি হবে।কারণ মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্রাইকোজেনের রিজার্ভ গড়ে তোলে।

খাটি মধুর বৈশিষ্ট্য
খাটি মধুতে কখনো কটু গন্ধ থাকে না।
মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক কোনো বিষাক্ত উপাদান প্রাকৃতিক গাছে থাকলেও তার প্রভাব মধুতে থাকে না।
মধু সংরক্ষণে কোনো পৃজারভেটিভ ব্যবহৃত হয় না। কারণ মধু নিজেই পৃজারভেটিভ গুণাগুণ সম্পন্ন পুষ্টিতে ভরপুর খাদ্য।
মধু উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত, নিষ্কাশন, সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের সময় অন্য কোনো পদার্থের সংমিশ্রণ প্রয়োজন হয় না।
খাটি মধু পানির গ্লাসে ড্রপ আকারে ছাড়লে তা সরাসরি ড্রপ অবস্থায়ই গ্লাসের নিচে চলে যায়।

খাটি মধুতে যে মান থাকা আবশ্যক
১. পানি শতকরা ২১ ভাগের বেশি নয়।
২. সুক্রোজ শতকরা ৫ ভাগের বেশি নয়।
৩. অ্যাশ শতকরা ১ ভাগের বেশি নয়।
৪. রিডিউসিং সুগার শতকরা ৬৫ ভাগের কম নয়।

খাঁটি মধু চেনার কিছু উপায়
বর্তমানে আমরা বাজার থেকে যে মধু কিনে আনি তা যে কতটুকু খাঁটি তা বলা মুশকিল । মধুর মধ্যে সাধারণত ভেজাল হিসেবে পানি, চিনি ও আরও অনেক কিছু মেশানো হয় । চলুন আমরা জেনে খাঁটি মধু চেনার কিছু উপায় -

১। ফ্রিজিং পরীক্ষা : মধুকে ফ্র্রিজের মধ্যে রেখে দিন । খাঁটি মধু জমবে না । ভেজাল মধু পুরাপুরি না জমলেও জমাট তলানী পড়বে।

২। পিঁপড়া পরীক্ষা : এক টুকরা কাগজের মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু নিন । তারপর যেখানে পিঁপড়া আছে সেখানে রেখে দিন । পিঁপড়া যদি মধুর ধারে কাছে না ঘেসে তবে তা খাঁটি মধু । আর পিঁপড়া যদি তা পছন্দ করে তবে মধুতে ভেজাল আছে।

৩। চক্ষু পরীক্ষা : খুব অল্প পরিমাণ মধু চোখের ভেতরে দিন । যদি মধু খাঁটি হয় তবে প্রথমে চোখ জ্বালাপোড়া করবে ও চোখ থেকে পানি বের হবে এবং খানিক পরে চোখে ঠান্ডা অনুভূতি হবে । (এই পরীক্ষায় অনুৎসাহিত করছি)

৪। দ্রাব্যতা পরীক্ষা : এক গ্লাস পানি নিয়ে এর মধ্যে এক টেবিল চামচ পরিমাণ মধু নিন । খুব ধীরে ধীরে গ্লাসটি শেক করুন । যদি মধু পানিতে পুরাপুরি দ্রবীভূত হয়ে যায় তবে তা ভেজাল মধু । আর মধু যদি পানিতে ছোট ছোট পিন্ডের আকারে থাকে তবে তা খাঁটি মধু ।
৫। মেথিলেটেড স্পিরিট পরীক্ষা : সমান অনুপাতে মধু এবং মেথিলেটেড স্পিরিট মিশ্রিত করে নাড়াতে থাকুন। খাঁটি মধু দ্রবীভুত না হয়ে তলনীতে জমা হবে । আর ভেজাল মধু দ্রবীভূত হয়ে মেথিলেটেড স্পিরিটকে মিল্কি করবে ।

৬। শিখা পরীক্ষা : একটি কটন উয়িক নিয়ে উহার এক প্রান্তকে মধুর মধ্যে ডুবিয়ে নেই । তারপর উঠিয়ে হালকা শেক করে নিই । একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে বা লাইটার জ্বলিয়ে তা আগুনের শিখায় ধরি । যদি তা জ্বলতে থাকে তবে মধু খাঁটি আর যদি না জ্বলে তবে মধুতে পানি মেশানো আছে । যদি মধুতে অল্প পরিমাণ পানি মেশানো থাকে তবে কটন উয়িক জ্বলতে থাকবে কিন্তু ক্র্যাকলিং সাউন্ড শোনা যাবে ।

৭। শোষণ পরীক্ষা : কয়েক ফোঁটা মধু একটি ব্লটিং পেপারে নিন ও পর্যবেক্ষণ করুন । খাঁটি মধু ব্লটিং পেপার কর্তৃক শোষিত হবে না । ভেজাল মধু ব্লটিং পেপারকে আর্দ্র করবে ।

৮। কলংক পরীক্ষা : একটুকরা সাদা কাপড়ের উপর সামান্য পরিমাণ মধু নিন এবং এবং কিছুক্ষন পর কাপড়টি ধৌত করুন । ধোয়ার পর কাপড়টিতে যদি কোন দাগ থাকে তবে মধুতে ভেজাল আছে । আর যদি কোন দাগ না থাকে তবে মধু খাঁটি ।

৯। হানি কম্ব পরীক্ষা : একটি কাঁচের বা সাদা রংয়ের বোলের মধ্যখানে দেড় থেকে দুই চা চামচ (প্লস্টিকের তৈরি) মধু নেই । তারপর বোলের চারদিক দিয়ে ধীরে ধীরে ঠান্ডা পানি ঢালতে থাকি । যখন পানি মধুকে ঢেকে ফেলবে তখন পানি ঢালা বন্ধ করি । তারপর বোলটিকে তুলে ধরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে দুই মিনিট ধরে ঘুরাতে থাকি । খাঁটি মধু এই মুভমেন্টের পরেও পানিতে দ্রবীভূত হবে না এবং হেক্সাগোনাল আকৃতি ধারণ করবে যা দেখতে প্রায় হানি কম্ব এর মত।নিচে হানি কম্ব এর একটি চিত্র দেওয়া হল।


১০। স্বচক্ষে দেখা পদ্ধতি : এই পরীক্ষগুলো না করেও খাঁটি মধু সম্পর্কে নিশ্চত হতে পারবেন যদি আপনি নিজে উপস্থিত থেকে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে আনতে পারেন ।

মধুর উপকারিতা
মধুর উপকারিতার কথা লিখে শেষ করা যাবে না।মধুর নানাবিধ উপকারিতা নিম্নে প্রদত্ত হলঃ

শক্তি প্রদায়ী
মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। মধু তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।

হজমে সহায়তা
এতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। কারণ এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে।পেটরোগা মানুষদের জন্য মধু বিশেষ উপকারি।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।১ চা চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।

রক্তশূন্যতায়
মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক।কারণ এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।

ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে
বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে ধরে শ্বাস টেনে নেয়া হয় তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবেন। কেউ কেউ মনে করেন, এক বছরের পুরনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।

অনিদ্রায়
মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।

যৌন দুর্বলতায়
পুরুষদের মধ্যে যাদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে তারা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান তাহলে বেশ উপকার পাবেন।

প্রশান্তিদায়ক পানীয়
হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়
মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে।মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়। এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।

পাকস্থলীর সুস্থতায়
মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক এসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুক জ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।

দেহে তাপ উৎপাদনে
শীতের ঠান্ডায় এটি দেহকে গরম রাখে। এক অথবা দুই চা চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর ঝরঝরে ও তাজা থাকে।

পানিশূন্যতায়
ডায়রিয়া হলে এক লিটার পানিতে ৫০ মিলিলিটার মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানিশূন্যতা রোধ করা যায়।

দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে
চোখের জন্য ভালো।গাজরের রসের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।

রূপচর্চায়
মেয়েদের রূপচর্চার ক্ষেত্রে মাস্ক হিসেবে মধুর ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। মুখের ত্বকের মসৃণতা বৃদ্ধির জন্যও মধু ব্যবহূত হয়।

ওজন কমাতে

মধুতে নেই কোনো চর্বি। মধু পেট পরিষ্কার করে,মধু ফ্যাট কমায়, ফলে ওজন কমে।

হজমে সহায়তা
মধু প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। তাই মধু সহজে হজম হয় এবং হজমে সহায়তা করে।

গলার স্বর
গলার স্বর সুন্দর ও মধুর করে।

তারুণ্য বজায় রাখতে
তারুণ্য বজায় রাখতে মধুর ভূমিকা অপরিহার্য। মধু এন্টি অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের রং ও ত্বক সুন্দর করে। ত্বকের ভাঁজ পড়া ও বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে।শরীরের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় ও তারুণ্য বাড়ায়।

হাড় ও দাঁত গঠনে
মধুর গুরুত্বপূর্ণউপকরণ ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম দাঁত, হাড়, চুলের গোড়া শক্ত রাখে, নখের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে, ভঙ্গুরতা রোধ করে।

রক্তশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে
মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, যা রক্তশূন্যতা,কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়ে
পুরনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে।

হাঁপানি রোধে
আধা গ্রাম গুঁড়ো করা গোলমরিচের সাথে সমপরিমাণ মধু এবং আদা মেশান। দিনে অন্তত তিন বার এই মিশ্রণ খান। এটা হাঁপানি রোধে সহায়তা করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়
দু চামচ মধুর সাথে এক চামচ রসুনের রস মেশান। সকাল-সন্ধ্যা দুবার এই মিশ্রণ খান। প্রতিনিয়ত এটার ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ কমায় ।প্রতিদিন সকালে খাবার এক ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত ।

রক্ত পরিষ্কারক
এক গ্লাস গরম পানির সাথে এক বা দুই চামচ মধু ও এক চামচ লেবুর রস মেশান। পেট খালি করার আগে প্রতিদিন এই মিশ্রন খান। এটা রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাছাড়া রক্তনালীগুলোও পরিষ্কার করে।

রক্ত উৎপাদনে সহায়তা
রক্ত উৎপাদনকারী উপকরণ আয়রন রয়েছে মধুতে। আয়রন রক্তের উপাদানকে (আরবিসি, ডব্লিউবিসি, প্লাটিলেট) অধিক কার্যকর ও শক্তিশালী করে।

হৃদরোগে
এক চামচ মৌরি গুঁড়োর সাথে এক বা দুই চামচ মধুর মিশ্রণ হৃদরোগের টনিক হিসেবে কাজ করে। এটা হৃদপেশিকে সবল করে এবং এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায়
মধু শরীরের রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ভেতরে এবং বাইরে যে কোনো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতাও যোগান দেয়।মধুতে আছে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে।

২০০৭ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সুপারবাগ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধে মধু অত্যন্ত কার্যকর।বিভিন্ন ভাইরাসের আক্রমণে বিভিন্ন রোগ প্রায়ই দেহকে দুর্বল করে দেয়। এসব ভাইরাস প্রতিরোধে মধু খুবই কার্যকর।

জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছেযে মধুতে রয়েছে উচ্চশক্তিসম্পন্ন অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট। এই এজেন্ট শরীরের ক্ষতিকর রোগ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে।

ব্যথা নিরাময়ে
আপনার শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা? প্রচুর বাতের ওষুধ খেয়েও কোনো ফল পাননি? মধু খান। যে অবাঞ্ছিত রসের কারণে শরীরে বাতব্যামোর জন্ম, সে রস অপসারিত করবে মধু। আপনার বাত সেরে যাবে।

গ্যাস্ট্রিক-আলসার থেকে মুক্তি
হজম সমস্যার সমাধানেও কাজ করে মধু।একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্যাস্ট্রিক-আলসার থেকে মুক্তি পেতে একজন ব্যক্তি দিনে তিনবেলা দুই চামচ করে মধু খেতে পারে।

মধু খেলে বুদ্ধি বাড়ে
মধু যে শুধু কায়িক শক্তি বাড়ায়, তা নয়। আপনি প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে এক চামচ মধু খাবেন, ঘুমানোর আগে এক চামচ মধু মস্তিষ্কের কাজ সঠিকভাবে চালাতে সাহায্য করে ফলে আপনার মস্তিষ্কের শক্তি তথা বুদ্ধির জোর বেড়ে যাবে। যে কোনো কাজেকর্মে আপনার মগজ আগের চেয়ে বেশি খেলবে। যাদের মাথা খাটিয়ে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য মধু এনে দেবে নতুন উদ্যম ও সৃষ্টিশীলতা। মনে রাখবেন, আপনি ঘুমিয়ে পড়লেও আপনার মস্তিষ্ক কিন্তু জেগে থাকে। সুতরাং তখনও তার শক্তি দরকার। আর এ শক্তির ভালোই যোগান দেয় মৌমাছির চাক ভেঙে পাওয়া এই প্রাকৃতিক মধু। আপনার লিভারে মধু থেকে পাওয়া ফলজ শর্করা বা ফ্রুকটোজ নামের পদার্থটিই মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবেই কাজ করে থাকে।মানুষের লিভারে শক্তি সংরক্ষণ করে এবং রাতব্যাপি মস্তিষ্কে শক্তি সরবরাহ করে থাকে।

ঠান্ডা দূর করে মধু
মধু নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগার প্রবণতা দূর হবে। চা, কফি ও গরম দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে হাঁচি, কাঁশি, জ্বর জ্বর ভাব, জ্বর, গলাব্যথায়,টনসিল, নাক দিয়ে পানি পড়া,জিহ্বার ঘা (ঠান্ডাজনিত) ভালো হয়।

সমপরিমাণ আদারস এবং মধুর মিশ্রণ কাশির সাহায্যে শ্লেষ্মা বের করে ফেলার একটি সহায়ক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। এটি ঠান্ডা, কাশি, কণ্ঠনালির ক্ষত, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি থেকে দ্রুত পরিত্রাণ দেয়।

পেনসিলভানিয়া স্টেট কলেজ অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক চামচ মধু বিভিন্ন সর্দির ওষুধ থেকেও অনেক বেশি কার্যকর।মধুর এই ঠাণ্ডাজনিত রোগনিরোধী গুণের কথা বলা হয়েছে এই গবেষণায়,যা কবিরাজি মতে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত।

শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে
শিশুদের ছয় মাস বয়সের পর থেকে অল্প করে (তিন-চার ফোঁটা) মধু নিয়মিত খাওয়ানো উচিত। এতে তাদের পুরো দেহের বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ভালো হবে। তবে শিশুকে মধু নিয়মিত খাওয়াতে হবে ঠান্ডা ঋতুতে, গরমের সময় নয়।শিশুদের দুর্বলতা দূর করার জন্যমধুতে রয়েছে জিংক ও ফসফরাস।বড়দের তুলনায় বাড়ন্ত শিশুদের (বিশেষ করে যারা স্কুলে যায়) জন্য পরিমাণে মধু বেশি প্রয়োজন।

আয়ু বৃদ্ধি
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, নিয়মিত মধু ও সুষম খাবারে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে বেশি কর্মক্ষম ও নিরোগ হয়েবেঁচে থাকে।

ক্ষত সারাতে মধু
উপকারী।প্রাচীন কাল তেকে গ্রিস ও মিশরে ক্ষত সারাইয়ে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০৭-এ সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পরীক্ষায় দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষত ও জখমের উপশমে মধু ডাক্তারী ড্রেসিং-এর চেয়েও বেশী কার্যকর। অগ্নিদগ্ধ ত্বকের জন্যও মধু খুব উপকারী।

আজকাল ছোটখাটো কাটাছেঁড়া সারাতেও মধুর ব্যবহারের কথা বলছেন বিজ্ঞানীরা।২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. শোন ব্লেয়ার বলেছেন, ক্ষতে ইনফেকশন সৃষ্টি হওয়া প্রতিরোধ করতেও ড্রেসিংয়ের সময় মধু মেশানো উচিত।

ধরুন, আপনার শরীরের কোন অংশ কেটে গেল হাতের কাছে এ্যান্টিবায়োটিক অয়েন্টমেন্ট নেই। এবার বিকল্প হিসাবে আপনার ঘরের মধুটি আপনার কাজে আসতে পারে। মধু ব্যাকটেরিয়ার আক্রামণকেও ঠেকায়। এভাবে মধু আপনার ক্ষতে ইনফেকশন হতে দেবে না এবং ক্ষতটি ও দ্রুত সারিয়ে তুলবে। মধুর এমন মধুরতম ব্যবহার আর কি হতে পারে?

কিন্তু কিভাবে ব্যবহার করবেন? এটা এবার জেনে নিন। প্রথমে ক্ষত স্থনটি ভাল করে ধুয়ে নিন। তারপর আলতো করে সেখানে পাস্তুরিত মধু লাগিয়ে নিন। এবার ব্যান্ডেজ দিয়ে জায়গাটা বেঁধে নিন। ব্যস, এভাবে দিনে তিনবার। ক্ষত সেরে যাবে।

তাছাড়া দেহের ক্ষত এবং ফোঁড়ার ওপর মধু এবং চিনি চমৎকার কাজ করে থাকে। এটি যে কোনো ব্যথাকে প্রশমিত করে এবং জীবাণুনাশকের কাজ করে।

মধু বনাম চিনি
একজন মানুষের জন্য দৈনিক যত ক্যালরি খাদ্য দরকার, তার ২২ ক্যালরি পাওয়া যায় এক চা চামচ মধুতে। একই পরিমাণ চিনিতে পাওয়া যাবে ১৫ ক্যালরি। তবু এক কেজি চিনির চেয়ে এক কেজি মধুর দাম অনেক বেশি। কারণ, চিনি যতটা সহজলভ্য মধু ততটা নয়। অবশ্য মধু চিনির চেয়ে দুষ্প্রাপ্য বলেই যে এর দাম বেশি, তাও নয়। আসলে চিনির চেয়ে মধুর দ্রব্যগুণটা মানব শরীরে অনেক বেশি সক্রিয়। তাই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি মধুর কাছে কারখানায় তৈরি চিনি তেমন পাত্তা পায় না। খাদ্যবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মধুতে রয়েছে প্রচুর গ্লুকোজ আর ফলজ শর্করা। এটি দিয়ে লিভারে সঞ্চিত হয় প্রচুর পরিমাণে গ্লাইকোজেন। আর এতে শরীরে পাওয়া যায় অমিত শক্তি ও প্রাণচাঞ্চল্য।

মধুর দানাদার সমস্যা
অনেক মধু দানাদার আকার ধারণ করে। যদি কোনো মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ ফ্রুক্টোজের চেয়ে বেশি থাকে তখন সে মধু অতি দ্রুত দানাদার হয়। যেমন সরিষা ফুলের মধু। আবার মধুতে পর্যাপ্ত পোলেন, ধুলাবালি ও বুদবুদ থাকলে সে মধু সহজে দানাদার হয়। সাধারণত ১১ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমতে পারে। তবে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মধু অতি দ্রুত জমতে সহায়ক। পানির পরিমাণ বেশি থাকলে মধুকে দানাদার হতে ত্বরান্বিত করবে। তবে দানাদার মধু খেতে কোনো সমস্যা নেই। দানাদার মধুকে পরোক্ষ তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তরল করা যায় বা কৃম মধুতে রূপান্তর করা যায়। দানাদার মধু ছয় মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।

সতর্কতা
মধু সব রোগের মহৌষধ হলেও একটি কথা থেকেই যায়, সেটি হলো ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে মধু খুবই বিপজ্জনক। কারণ এটি রক্তে সরাসরি শোষিত হয় বলে সহজেই দেহের রক্ত শর্করাকে উচ্চস্তরে নিয়ে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মধু গ্রহণ নিষেধ।

তাছাড়া মধু সবার শরীরে গরম তৈরি করে। যেকোনো বয়সের মানুষ অধিক পুষ্টির আশায় বেশিমধু খেলে ডায়রিয়া হয়ে যাবে।

পুষ্টিমূল্য বিচারে মধু হোক আপনার নিত্যসঙ্গী।আসুন আমারা নিয়মিত মধু খাই এবং মধুর মত আমাদের জীবনটাকে গড়ে তুলি।
»» Read more

Wednesday, May 9, 2012

কম আলোয় পড়া ক্ষতিকর!

কম আলো ও বেশি আলোয় দেখার জন্য চোখের স্নায়ুকোষ আছে। এদের নাম রড কোষ ও কোন কোষ। একেবারে আলোহীন অবস্থায় কিছু দেখা যায় না। কম আলোয় বা আধো অন্ধকারে রেটিনার রড কোষগুলি আমাদের দেখার কাজে সাহায্য করে। তবে সাধারণ দেখা আর পড়ার দেখার মধ্যে পার্থক্য আছে। পড়ার সময় অক্ষরের চেহারাগুলি স্পষ্ট হওয়া দরকার।




কোনো জিনিসকে ভালো ভাবে দেখার জন্যও এটা প্রয়োজন। যা দেখছি বা পড়ছি তার সীমারেখা খুব পরিষ্ড়্গার হওয়া নির্ভর করে আলোর উপর। আর আলো কম হলে চোখ ‘একোমোডেশান’ নামে চোখের এক বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগায়। কম আলোয় পড়লে রেটিনার রড কোষ কাজ করলেই হবে না, প্রয়োজন হবে বেশি একোমোডেশানের। বেশি দিন একটানা একোমোডেশানের উপর বেশি চাপ পড়লে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। তাই কম আলোয় বেশি দিন পড়া উচিত নয়।
»» Read more

Saturday, May 5, 2012

ভালো ঘুমের জন্য টিপস!

সকলে চায় সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাতে ভালো ঘুম হউক। আর অনেকে ঘুমের জন্য কতনা যুদ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত অনেককে ঘুমের ওষুধ পর্যন্ত সেবন করতে হয়। তবে ভালো ঘুমের জন্য যা জানা দরকারঃ


  •  নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে যাতে শরীরে অবসাদ না পেয়ে বসে।
  •  সন্ধ্যা ৭টার পর কফি বা ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকুন।
  •  ঘুমাতে যাবার অ-তঃ ১ ঘন্টা পূর্ব থেকে কোন চি-ার কাজ করবেন না। টোটাল রিল্যাক্সড মুড়ে থাকতে হবে।
  •  ঘুমানোর ঘরটি হতে হবে একেবারেই কোলাহলমুক্ত।
  •  ঘুমানোর সময় সবধরণের বাতি নিভিয়ে দিন।
  •  যদি ঘুম আসতে বিলম্ব হয় তবে খানিকটা লাঁ শ্বাস নিন।
  •  সম্ভব হলে ১ গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করুন।
  •  রাতে গোসলের পর অয়েল ম্যাসাজ নিতে চেষ্টা করুন।
  •  এসব করেও যদি ঘুম না আসে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
»» Read more

গর্ভবতী মহিলাদের জন্য টিপস!

স্বাস্থ্যকর সন্তান জন্ম দেয়ার জন্য মায়েদের কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সেদিকেই লক্ষ্য রেখে কিছু টিপস দেয়া হলো :

  •  আপনি প্রেগন্যান্সি প্রাপ্তির জন্য চিন্তা-ভাবনা করলে গর্ভধারণের আগে পরিকল্পনা করে নিজেকে সম্পূর্ণ তৈরি করে নিন। কখনও কখনও আপনার এমন যেন মনে না হয়, আপনি প্রেগন্যান্ট। আপনার চিন্তা-ভাবনার প্রভাব গর্ভজাত শিশুর ওপর ভীষণভাবে পড়ে। শেষ কবে ঋতুচক্র হয়েছিল তার ওপরও লক্ষ্য রাখুন। নয়তো সন্তানের জন্মের তারিখও সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।


  •   শিশুর স্বাস্থ্য পূর্ণরূপে মা-বাবার স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে। প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডে মা যা আহার গ্রহণ করবে, তা শিশুর বিকাশে সহায়ক হয়। তাই ভোজনে ভিটামিন ‘সি’, ফাইবার্স, আয়রন, ফলিক অ্যাসিডযুক্ত খাদ্য অবশ্যই নেয়া উচিত। বেশি তেল বা ঘি দিয়ে রান্না খাবার খেলে শিশু স্বাস্থ্যবান হয়, একথা সম্পূর্ণ ভুল। সুতরাং এমন ভোজন নেয়া উচিত যা পুষ্টিকর,  যেমন—তাজা ফল, সবুজ সবজি, দুধ, দই ইত্যাদি উপযোগী খাবার। আর অকারণে ওষুধ সেবনের কোনো প্রয়োজন নেই।

    •  যদি আপনি অন্য কোনো রকমের ওষুধ সেবন করেন তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে গর্ভধারণের আগেই ওষুধ সেবন বন্ধ করা। এতে আপনার বডি স্ট্যাটাস নরমাল থাকবে। আর শিশুর কোনো রকমের সমস্যা হবে না।

    • ধূমপান ও ড্রিঙ্ক করলে গর্ভজাত শিশুর পক্ষে হানিকারক হয়। যদি আপনি বা আপনার সঙ্গী ধূমপান করেন তাহলে গর্ভধারণ করার আগেই আপনাদের ধূমপান বন্ধ করতে হবে। যেসব মহিলা ধূমপান করেন তারা সময়ের আগেই সামান্য থেকে কম ওজনের শিশুর জন্ম দেন। ধূমপানের জন্য কম ওজনেরও সন্তানের জন্ম হয় বা মৃত শিশুরও জন্ম হতে পারে।

    • যদি আপনি কোনো রাসায়নিক সংস্থা বা এক্সরেসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন তাহলে এর বিষজাতীয় ধোঁয়া আপনার সন্তানের জন্য ক্ষতিকারক। এসব স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি।
       
    •  মানুষের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে কম্পিউটারের কুপ্রভাব গর্ভজাত শিশুর ওপরে খুব বেশিভাবে পড়ে। বর্তমান ব্যস্ত যুগে মহিলারা আইটি সেক্টরে কর্মরত। এতে কোনো সমস্যা হয় না।

    • শিশুর জন্মের আগে তার সুরক্ষার জন্য ব্লাড টেস্ট অবশ্যই করাবেন। এইচআইভি টেস্ট করানোও জরুরি।

    »» Read more

    Thursday, May 3, 2012

    আপনি জানেন কীঃ মানুষ ঘুমায় কেন ?

    আগে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, মানুষ ঘুমায় শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য। কিন্তু ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘুম নাকি খুব একটা কাজের নয়। ঝাড়া ৮ ঘণ্টা ঘুমালে শরীরের যে পরিমাণ ক্যালরি জমা হবে, সেই ক্যালরি নাকি একটা টোস্ট খেয়েই পাওয়া যায়! ঘুমের স্তর মূলত ২টি-র্যাপিড আই মুভমেন্ট স্তর, আর নন-র্যাপিড আই মুভমেন্ট স্তর; সংক্ষেপে আরইএম আর এনআরইএম। এনআরইএম স্তরকে কিন্তু আবার ৪টা স্তরে ভাগ করা যায়।
    প্রথম স্তরটা যখন আমরা কেবল ঘুমাতে শুরু করি, সেটা হালকা একটা তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব। আমরা ঘুমের এই স্তরে থাকি ১০ মিনিটের মতো। আর তারপর পরের স্তরে চলে যাই। এই স্তরে এসে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি কমতে থাকে। আর মোটামুটি ২০ মিনিট পরে আমরা গভীর ঘুমে তলিয়ে যাই। এই গভীর ঘুমের ২টি স্তর আছে। প্রথম স্তরে আমাদের মস্তিষ্ক আবার এক বিশেষ ধরনের তরঙ্গ (ফ্রিকোয়েন্সি) সৃষ্টি করে। আর এই স্তরে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি একেবারেই কমে যায়।
    »» Read more

    মাইগ্রেন বা অর্ধমাথা ব্যাথা : সমস্যা ও সমাধান !

    মাইগ্রেন এক ধরনের মাথাব্যথা যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ লোক এই ধরনের মাথাব্যথায় ভুগে থাকেন। যাদের মাইগ্রেন নেই তারা ধারণাও করতে পারবেন না কতটা কষ্টদায়ক এই রোগ। মাইগ্রেন কথাটির অর্থ আধা মাথাব্যথা।


    মাইগ্রেন-এর কারণ :
    মাইগ্রেন মাথাব্যথার সঠিক কারণ আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, বলা হয়ে থাকে যে, ব্রেনের ভেতরে রক্তবাহীনালীসমূহ কোনো কারণে সংকুচিত হয়। এটা হলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের তারতম্যের জন্যই এই প্রচণ্ড ধপ ধপ করে মাথাব্যথা শুরু হয়। বমি না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যথা কমে না। মাইগ্রেন মাথাব্যথা একবার শুরু হলে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত একাধারে চলতে পারে। এমনকি, স্বাভাবিক কাজ বা পড়ালেখার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

    মাইগ্রেন হওয়ার আগে :
    যাদের মাইগ্রেন ব্যথা আছে, তাদের অনেকগুলো পূর্বাভাস ব্যথা ওঠার আগে অনুভূত হতে পারে। টেনশন, পরীক্ষা বা চাকরির অত্যন্ত চাপ, মানসিক অশান্তি, বাস বা গাড়িতে অনেকক্ষণ যাত্রা করা, মহিলাদের বেশিক্ষণ গরমে রান্না ঘরে থাকা, মাসিকের সময় ইত্যাদি নানাবিধ কারণে মাইগ্রেন শুরু হতে পারে। সাধারণ মাইগ্রেন হলে সাধারণত খুব বেশি মাথাব্যথা হয় না। বমি ভাব থাকতে পারে। কখনও এক বা দুই সপ্তাহ প্রচণ্ড মাথাব্যথা থাকে এবং রোগী ব্যথায় ছটফট করেন বা ঘুম থেকে সকালে উঠেই ব্যথা শুরু হয়।

    মাইগ্রেন রোগের চিকিৎসা :
    প্রথমেই বুঝতে হবে যে, কারো মাইগ্রেন থাকলে কোনো ওষুধে এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব নয়। যাদের মাইগ্রেন মাথাব্যথা থাকে, সারাজীবনই কোনো না কোনো সময়ে কোনো না কোনো কারণে এই মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। সাধারণ মাইগ্রেন হলে সাধারণত ব্যথার ওষুধ যেমন প্যারাসিটামল খেলেই কাজ হয়। যদি মাইগ্রেন বারবার হতে থাকে এবং কাজে বাধা সৃষ্টি করে, তবে কিছু শক্ত ব্যথানাশক ওষুধ এবং এর সাথে যাতে বারবার ব্যথা ফিরে না আসে সে জন্য কিছু প্রতিষেধক ওষুধ দেওয়া হয়। কখনও কখনও সামান্য চশমার পাওয়ার দিতে হয়। মাইগ্রেন কখনও অবহেলা করা উচিত নয়। মাথা ব্যথা হলে অবহেলা না করে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
    »» Read more

    Tuesday, April 17, 2012

    চকলেট খান, স্লিম হোন!

    চকলেট হলো এমন একটি খাবার যা ক্যালরিতে ভরপুর। সুতরাং স্বাস্থ্য সচেতনদের চিরশত্রু এ খাবার। কিন্তু এ ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে; ক্যালরিতে ঠাসা এই চকলেটই নাকি স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। অতিরিক্ত ওজন ঝরাতে সক্ষম এই লোভনীয় মিষ্টান্ন।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, চকলেটে প্রচুর ক্যালরি থাকলেও হজমে এর রয়েছে ইতিবাচক প্রভাব। বেশি বেশি চকলেট খেলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভাল থাকে, কলেস্টেরলের মাত্রা থাকে পরিমিত, গ্লুকোজ এবং রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    এক হাজার নারী-পুরুষের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের এক সপ্তাহের চকোলেট ভক্ষণ এবং বডি ম্যাস ইনডেক্স (বিএমআই) বা শরীরের ওজন ও উচ্চতার অনুপাত পরিমাপ করা হয়েছে। দেখা গেছে, যারা ঘন ঘন চকলেট খান তাদের বিএমআই অনুপাত অনেক কম তাদের তুলনায় যারা খুব একটা চকোলেট খান না।

    কিন্তু মজার ব্যাপার হলো চকলেটে এতো বেশি ক্যালরি থাকা সত্ত্বেও তা ওজন কমায় কি করে। ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে যে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে তা চর্বি থেকে ক্যালরি খরচের ক্ষেত্রে শরীরকে সাহায্য করে থাকতে পারে। আর এভাবেই আপনি পেতে পারেন একটি আকর্ষণীয় স্লিম ফিগার।
    »» Read more