খুশকি মুক্ত চুল পেতে যা করণীয়!

আসসালামুআলাইকুম। আশা করি সবাই মহান আল্লাহর অশেষ রহমত ও করুণায় ভালোই আছেন? আলহামদুলিল্লাহ আমিও আপনাদের সবার দোয়ায় ও আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালো আছি। প্রথমেই একটু বক বক করে নেই। নয়তো আবার পরে আফসোস করবো এই বলে যে, আহারে! সবাইকে তো টিপস শেয়ার করলাম কিন্তু মনের কথাটা মনেই থেকে গেল? তাহলে ব্লগইন করে মজাটাই বা কি হলো বলুন? তো আজ আমার শরীরটা বেশ ভালো তবে মনটা একটু খারাপ! কেন জানেন?...    তারিখঃ ০৭/০৪/২০১২  |  সবটুকু পড়ুন »
Showing posts with label Others. Show all posts
Showing posts with label Others. Show all posts

Friday, August 10, 2012

ঘুমঃ যে কারণে উপকারী !

যান্ত্রিক জীবনের অতি ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় নেই অনেকের। অথবা হয়তো অনেকেই রাতের পর রাত ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের সামনে বসে পার করছেন। সকাল থেকে আবার পড়াশোনা বা অফিসের কাজ। ঘুমানোর অতো সময় কোথায়! কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম জীবনের জন্য, শরীরের জন্য, সুস্থতার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। রাতের নির্বিঘ, গভীর ঘুম পরদিন মানুষকে চনমনে রাখে, দিন শুরু হয় নতুন শক্তিতে, নতুন উদ্দীপনায়। এসব আমরা জানি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পাশাপাশি ঘুমের আরও কিছু উপকারিতার কথা বলছেন, যেগুলো একটু অন্যরকম ও নতুন শোনালেও তা গবেষণা থেকেই পাওয়া।



গবেষকরা বলছেন, যারা কম ঘুমায়, তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। দেখা গেছে, যারা রাতে মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমায় তাদের দেহে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন বেশী নিঃসৃত হয়। এ নিঃসরণের পরিমাণ যারা ৮ ঘন্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে ১৫% বেশী। একই সাথে ক্ষুধা কমানোর হরমোনটিও কম নিঃসৃত হয়। বেশী ক্ষুধার কারণে এরা বেশী খায়, ফলে বেড়ে যায় তাদের বডি মাস ইনডেক্সও। তাই, ‘স্লিম ফিগারে’র জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম।

পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক দল ব্যক্তিকে পিয়ানো বাজানো শিখিয়ে তাদের দুই গ্র“পে ভাগ করে দেন। এক গ্র“প শেখার পরবর্তী ১২ ঘন্টা ঘুমায়, অপর গ্র“প এই ১২ ঘন্টা জেগে থাকে। পরবর্তীতে দেখা যায়, যারা ঘুমিয়েছিল, তারা পিয়ানোতে সঠিক সুরটি তুলতে বেশী পারঙ্গমতা দেখিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন, এ সময় অন্য কোন তথ্য বা কাজ তাদের ব্রেনকে ব্যস্ত না রাখায় শেখা সুরটি স্মৃতিতে ভালভাবে গেঁথেছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সুনিদ্রা প্রয়োজন। যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, তখন দেহে ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্যান্সার-প্রতিরোধী এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও। দেখা গেছে, যেসব মহিলা রাতে কাজ করেন, তাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ৭০ গুণ বেশী। এছাড়া রাতের পর রাত জেগে থাকা মানুষের গ্যাস্ট্রিক আলসারের সম্ভাবনাও বেশী থাকে। কারণ, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পাকস্থলীর কোষকে রক্ষা করে যে রাসায়নিক পদার্থ- তা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই বেশী নিঃসৃত হয়।


বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতেও ঘুমের ভূমিকা উল্লেখ্যযোগ্য। রাতের পর রাত নিদ্রাহীনতা বার্ধক্যজনিত রোগের তীব্রতা বাড়ায়। অপরদিকে, গবেষকরা দেখেছেন, যারা রাতে গড়ে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমায়, তারা সাড়ে চার ঘন্টার কম ঘুম যাদের, তাদের চেয়ে বেশীদিন বাঁচে।
অন্যদিকে, টিন এজারদের নিদ্রাহীনতা তাদের জীবন বিশৃংখল করে তুলতে পারে। এরা অন্যদের চেয়ে বেশী বিষণœতায় ভোগে ও কম আত্মবিশ্বাসী হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, যারা ছোটবেলায় নিদ্রাহীনতায় ভোগে, তাদের বয়ঃসন্ধিকালে মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ।
তাই, জীবনকে অতি ব্যস্ততায় জড়িয়ে না ফেলে নিজের বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন, পর্যাপ্ত সময় ঘুমান। যাপন করুন সুস্থ, নীরোগ, দীর্ঘ জীবন
»» Read more

Wednesday, August 8, 2012

বিকাশ (bkash) কি? কেন এবং কিভাবে?

টিভিতে/রেডিওতে দেখে বা শুনে অনেকেরই আগ্রহ জাগে সার্ভিসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য তাদের জন্য এই টিউন। আপনার/আমার উপকারে না লাগলেও হয়তো অনেকের উপকারে লাগবে তাই জেনে রাখুন।
bKash কি?
bKash(বিকাশ) হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সহজে ও দ্রুত টাকা পাঠানোর অন্যতম পদ্ধতি।
কেন বিকাশ ব্যবহার করবেন??
অর্থাৎ বিকাশ ব্যবহার করে আপনি কি কি সুবিধাগুলো পাবেনঃ
# সেকেন্ডের মধ্যে বাংলাদেশের যে কোন জায়গায় টাকা পাঠাতে পারবেন।
# ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার দোকান থেকে কেনা-কাটা করতে পারবেন। আমার জানামতে বর্তমানে আড়ং এ এই সুবিধা পাওয়া যায়। তবে আপনার যদি দোকান থাকে আপনিও রেজিঃ করে আপনার ক্রেতাদের কাছ থেকে বিকাশ এর মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহন করতে পারবেন।
# কিছৃ কিছৃ অনলাইন শপিং সাইট বর্তমানে বিকাশ সাপোর্ট করছে। তাই অনলাইনেও কেনাকাটা কারতে পারেন।
আর অন্যান্য কাজগুলোর কথা আপনারা বুঝতেই পারছেন।
bKash রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি কাগজপত্র লাগেঃ
১। একটি রবি অথবা গ্রামীণফোন নাম্বার
২। ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৩। ভোটার আইডি অথবা পাসপোর্ট অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি। (সত্যায়িত করা লাগবে না)
৪। যার নামে রেজিস্ট্রেশন করবেন তার বয়স অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং রেজিঃ করার সময় বিকাশ এজেন্টের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে রেজিঃ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আর একটি কথা তো বলতে ভুলেই গেছি রেজিস্ট্রেশন করতে কিন্তু কোন টাকা লাগে না অর্থাৎ ফ্রি। তাই রেজিঃ করে রাখতে পারেন।
যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেনঃ
প্রথমে আপনাকে আপনার এলাকার bkash এজেন্ট খুজে বের করতে হবে। খোজাখুজির কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই আপনি চাইলে অনলাইনেই দেখে নিতে পারবেন আপনার এলাকার বিকাশ এজেন্টদের ঠিকানা।
আপনার এলাকার বিকাশ এজেন্টের ঠিকানা খুজে বের করবেন কিভাবে?
এখানে ক্লিক করে আপনার এলাকা(যেখানে রেজিঃ করবেন)তা নির্বাচন করুন
তারপর Find এ ক্লিক করলেই আপনার এলাকার বিকাশ এজেন্টদের লিস্ট/দোকানের ঠিকানা পেয়ে যাবেন। তারপর আপনাকে উপরের কাগজপত্র নিয়ে সেখানে যেতে হবে।
বিকাশ এজেন্ট আপনাকে একটি ফর্ম দিবে ঐটা পূরন করতে হবে। তারপর
আপনার মোবাইল নং এ একটি কনফারমেশন মেসেজ আসবে। আপনাকে এখন আপনার ট্রানজেকশন পিন তৈরি করতে হবে। মনে রাখবেন ট্রানজেকশন পিন যার হাতে টাকা কিন্তু তার। সুতরাং ট্রানজেকশন পিন গোপনে রাখবেন। ট্রানজেকশন পিন ৪সংখ্যার একটি নাম্বার। টাকা তুলতে কিন্তু আপনার ট্রানজেকশন পিন লাগবে।
রেজিঃ তো শেষ এবার টাকা লোড করার পালা। টাকা লোড করা হচ্ছে সবচেয়ে সহজ। যেভাবে ফ্লেক্সিলোড করেন একই সিস্টেম বিকাশ এজেন্টকে টাকা আর আপনার নাম্বার দিলেই আপনার কাজ শেষ। ফ্লেক্সির সাথে পার্থক্য হচ্ছে এই টাকা আপনি তুলতে পারবেন আর ফ্লেক্সির টাকা কথা বলে শেষ করতে হয়।
বিকাশ থেকে কিভাবে টাকা তুলবেন?
আপনার বিকাশ একাউন্টের টাকা তোলার জন্য বিকাশ এজেন্টের কাছে গিয়ে তাকে অবহিত করুন আপনি কত টাকা তুলতে চান। তাহলে বিকাশ এজেন্ট আপনাকে তার একাউন্ট নাম্বার দিবে। এখন আপনাকে ঐ নাম্বারে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠাতে কিন্তু আপনার ট্রানজেকশন পিন লাগবে।
এজেন্টকে টাকা পাঠানোর জন্য আপনার মোবাইল থেকে *247# ডায়াল করলে বিকাশ মেনু আসবে।
তারপর 4. Cash Out  অপশনটি নির্বাচন করবেন। তারপর 1. From Agent নির্বাচন করে এজেন্টের একাউন্ট নাম্বার দিয়ে OK করলে আপনার ট্রানজেকশন পিন দিতে হবে। তাহলে আপনার টাকা পেয়ে যাবেন। আর এই কাজগুলো আপনি না পারলে বিকাশ এজেন্টকে বললেই করে দেবে সমস্যা নাই। তবে আপনার পিন নাম্বার কিন্তু তাকে বলবেন না। :পি
টাকা তোলার সময় আপনার টাকা হতে কিছু চার্জ কেটে রাখা হবে যা নিম্নরূপঃ
আপনি চাইলে আপনার একাউন্ট থেকে অন্য কাউকে টাকা পাঠাতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আপনার একাউন্ট থেকে অতিরিক্ত ২ টাকা সার্ভিস চার্জ হিসাবে কেটে নেবে। তাই আপনি কাউকে টাকা পাঠালে এজেন্টকে দিয়েই পাঠাইয়েন তাহলে আপনার আর অতিরিক্ত ২টাকা লাগবে না।
»» Read more

Sunday, August 5, 2012

বানানো হলো সত্যি 'রোবোকপ'!


undefinedজাপানি বিজ্ঞানীদের তৈরি রোবট ‘কুরাতাস’-এর বদৌলতে এবার কল্পবিজ্ঞানের দুনিয়া ছেড়ে বাস্তব পৃথিবীতে পা রাখছে ‘রোবোকপ’। চার মিটার লম্বা কুরাতাসের রয়েছে একটি মেশিনগান, যা প্রতি সেকেন্ডে ১শ’ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে পারে। খবর দি গার্ডিয়ান-এর।

টোকিওর ওয়ান্ডার ফেস্টিভালে প্রথমবারের মতো কুরাতাস দেখান নির্মাতারা। লম্বায় চার মিটার বা ১৩ ফিট উঁচু রোবটির ওজন সাড়ে চার টন। আর প্রতি মিনিটে ছয় হাজার এয়ারগানের গুলি ছোঁড়ার ক্ষমতা রাখে রোবটটি। নির্মাতারা কুরাতাস-এর দাম হেঁকেছেন ১০ কোটি ইয়েন।

দানবীয় রোবটটি চালানো যায় এটির ককপিটে বসে। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে, চাইলে থ্রিজি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়েও রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন এর চালক। আর রোবটটির সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ৬ দশমিক ২ মাইল।

কুরাতাস রোবটটি চলে ডিজেল ইঞ্জিনে। তবে নির্মাতারা বলছেন, মেশিনগানের উপস্থিতির কারণে রোবটটি ‘ভবিষ্যতের ওয়ারমেশিন’-এর ইমেজ তৈরি করলেও শান্তিপূর্ণ কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব রোবটটি। প্রয়োজনে দমকলকর্মী থেকে শুরু করে ঝাড়ুদাড়ের কাজও করতে পারবে কুরাতাস।

সূত্রঃ বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোর
»» Read more

বন্ধু দিবস আগমনের ইতিহাস !

১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির বন্ধু আত্মহত্যা করেন। এরপরই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষেই আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫ সালে আগস্টের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন।


আর বর্তমানে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশেই। যাদের প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী বন্ধু আর বন্ধুতা, তারা একমুহূর্তেও জন্যও মন থেকে আড়াল করতে পারেন না বন্ধুদের। জীবনের সংকটে এরা ছুটে যান বন্ধুদের কাছে। আবার আনন্দ, উল্লাস কিংবা দিন শেষের অবসরেও এরা ভালোবাসেন বন্ধুত্বের কলতান শুনতে। বন্ধুত্বের পরিপূরক সম্পর্কের মাঝে এরা খুঁজে পান জীবনযাপনের ভিন্ন রস। বিশ্বের সকল বন্ধুদের জানাই বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা...
»» Read more

Monday, June 11, 2012

গেমসঃ শার্লকহোমসের নতুন অভিযান



‡Mgm:kvj©K‡nvg‡mi bZyb Awfhvb

শার্লক হোমসকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আর্থার কোনান ডয়ালের লেখনিতে এই গোয়েন্দা চরিত্রটি অমর হয়ে রয়েছে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে। বেকার স্ট্রিটের বাসিন্দা শার্লক হোমস এখনও বিশ্ববাসীর কাছে জীবন্ত। তাই তো এখনো ২২১, বেকার স্ট্রিটে শার্লক হোমসের কাছে প্রতিদিন আসে হাজারো চিঠি। সকলেই চায় তাদের নানান সমস্যা সমাধানে শার্লক হোমসের পরামর্শ।

শার্লক হোমসের জনপ্রিয়তায় নির্মিত হয়েছে প্রচুর চলচ্চিত্র, প্রচুর টিভি সিরিয়াল। বিভিন্ন দেশের নির্মাতারা তৈরি করেছেন এসব ছবি। পাশাপাশি পিসি গেমের জগতেও আগেই প্রবেশ করেছে শার্লক হোমস। ভিডিও গেম নির্মাতা ফ্রগওয়্যার ২০০২ সালে প্রথম নিয়ে আসে শার্লক হোমসকে নিয়ে গেম। তারপর তারা একে একে আরও ছয়টি গেম নিয়ে এসেছে এই সিরিজের। এরই ধারাবাহিকতায় এবার সিরিজের সপ্তম গেম ‘দ্য টেস্টামেন্ট অব শার্লক হোমস’ নিয়ে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ফ্রগওয়্যার। ফোকাস হোম ইন্টার্যাকটিভের ব্যানারে আসছে সেপ্টেম্বর মাসে রিলিজ হবে এই গেমটি। পিসি’র জন্য সপ্তম গেম হলেও এই গেমটির বিশেষত্ব হচ্ছে এই প্রথম এটি তৈরি করা হয়েছে প্লেস্টেশন এবং এক্সবক্স ৩৬০’র জন্য বিশেষভাবে। আর পিএস৩’র জন্য এটিই হতে যাচ্ছে এই সিরিজের প্রথম গেম। নির্মাতা ফ্রগওয়্যার জানিয়েছে, এটিই এই সিরিজের সবচেয়ে সুন্দর গেম। আর ভক্তদের মাঝেও তাই এখন থেকেই গেমটি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

গেমটির কাহিনির পটভূমিতে রয়েছে ১৮৯৮ সাল। হোমস তখন মাত্রই একটি রহস্যের সমাধান করেছে। সমাধান করা কেসটিতে হোমস অমূল্য কিছু রতেœ তৈরি একটি নেকলেস উদ্ধার করে। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, উদ্ধারের পর নেকলেসটির মালিক বুঝতে পারে যে এটি একটি নকল নেকলেস। আর ঘটনাচক্রের ধারাবাহিকতায় শার্লক হোমসের দিকেই সন্দেহের তীর নিবদ্ধ হয়। এমন সময়ে হোমস তার সহকারী ওয়াটসনকে জানায়, নাইটব্রিজ বিশপের সাথে তার সাক্ষাৎ করার কথা। বিশপের সাথে দেখা করতে গিয়ে শার্লক হোমস দেখতে পায় বিশপকে বেঁধে রেখে অত্যাচার করে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এমন সময় ইন্সপেক্টর ব্যাংকও উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে।

শার্লক হোমস এমন সময়ে বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। গোটা লন্ডন তাকে সন্দেহ করতে শুরু করে এবং তার উপরে আস্থা হারিয়ে ফেলে। এদিকে শার্লক নিজেও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার প্রয়োজনীয় প্রমাণ হাজির করতে পারেনা। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করার মত প্রমাণও তখন তার হাতে নেই। এই সময়ে শার্লক হোমসের আচরণেও কিছু অসংলগ্নতা দেখা দেয়। বিশেষ করে সে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করতে শুরু করে। সংশ্লিষ্ট সকলকে পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে থাকে সে। এছাড়া রাতের বেলা পালিয়ে বেড়ানো, ব্ল্যাকমেইল, কেসের প্রমাণাদি নষ্ট করার মত কাজ অবিরাম করতে থাকায় তার উপরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হতে থাকে। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, তার একান্ত অনুগত সহকারী ড. ওয়াটসনও তার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে, অবিশ্বাস করতে শুরু করে তাকে।

‘দ্য টেস্টামেন্ট অব শার্লক হোমস’ গেমটিতে মূলত শার্লক হোমসের চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে নির্মাতা ফ্রগওয়্যার। এর আগের পর্বগুলো মূলত স্যার আর্থার কোনান ডয়ালের লেখা কহিনি থেকেই করা হয়েছে। ওই গেমগুলোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অপরাধীদের ধরার জন্য হোমসের নানান তৎপরতা। সেই ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এবারেই প্রথম কাজ করা হয়েছে শার্লক হোমসের চরিত্র নিয়ে। এই গেমটিকে তৈরি করা হয়েছে ড. ওয়াটসনের দৃষ্টিতে। তার দৃষ্টিতেই দেখা যাবে, রহস্য সমাধান করার জন্য শার্লক হোমসকে নানান ধরনের অপরাধের সাথেও জড়িত হতে হয়। এমনকি এক সময় সে খুন পর্যন্ত করে।

শার্লক হোমসের এই পর্বের গেমটি তৈরি করা হয়েছে উন্মুক্ত একটি পরিবেশে। এখানে গেমার বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্তের মুখোমুখি হবে। গেমার অবশ্য নিজেই নির্ধারণ করবে সে কোন তদন্তের মুখোমুখি হবে এবং কোনটির মুখোমুখি হবেনা। সে নিজেই আবার তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে, রহস্যের ক্লুগুলো বের করতে পারবে এবং গেমের ‘ডিডাকশন সিস্টেম’ ব্যবহার করে চরিত্রটি নির্দোষ নাকি অপরাধী এবং তার অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করতে পারবে। আবার এখানে গেমার ওয়াটসনের চরিত্র ধারণ করে শার্লক হোমসের চরিত্র বিশ্লেষণ করার সুযোগও পাবে।

ইতিমধ্যেই গেমটি নির্মাণের কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলেই জানিয়েছে নির্মাতারা। নতুন গেমিং ইঞ্জিন ব্যবহার করায় এর গতিতে নতুন মাত্রা আসবে বলেই আশাবাদী তারা। আর এর গ্রাফিক্স এবং সাউন্ডের কাজেও সকলে মুগ্ধ হবে বলেই আশা করছেন তারা।
»» Read more

Monday, June 4, 2012

কি করবেন যখন লিফটের তার ছিঁড়ে গেল হঠাৎ !!!!

ধরুন, আপনি ৩০ তলা থেকে নামছেন, হঠাৎ লিফটের তার ছিঁড়ে গেল। হু হু করে নিচে নামছে লিফট।




  • ৪ সেকেন্ড এর একটু পরই আপনার বেগ হবে = ৪০মি/সে।
  • আপনার ওজন ধরে নেয়া যাক = ৬০ কেজি।
  • তাহলে ভরবেগ = (৬০*৪০) কেজি মি/সে = ২৪০০ কেজি মি/সে।
  • মধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ = ৯.৮ মি/সে ^ ২

অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ভরবেগ বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ লিফট টা যখন মাটিতে আঁছড়ে পড়বে তখন আপনার ওজনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ওজনের ধাক্কা খাবেন। এমন কি আপনার মাথার ওজনের চাপে ঘাড় ভেঙ্গে যাবে। পা ভাজ করে ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করেও লাভ হবে না। কারণ পড়ন্ত শরীরের প্রচণ্ড ভরবেগ পা সইতে পারবে না। লাফ দিয়ে শুন্যে অবস্থানের চেষ্টাও বৃথা। কারণ ঠিক কখন লিফট মাটিতে পড়বে টা বোঝা মুশকিল।

এ অবস্থায় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে লিফটের মেঝেতে সটান শুয়ে পড়া, যেন শরীরের চাপ সবচেয়ে বেশি ছড়ানো অবস্থানে পড়ে এবং শরীরের কোন অংশকে যেন অন্য কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চাপ সইতে না হয়।
»» Read more

Monday, May 28, 2012

মোনালিসা : যত মজার বিবর্তন (ছবি ব্লগ)

বিসমিল্লাহীর রহমানীর রাহীম।
আশা করি সবাই আল্লাহর অশেষ রহমত ও করুণায় ভালোই আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের দোয়ায় ভালোই আছি। অনেকদিন ধরে ব্লগে আসা হচ্ছে না। বেশ ব্যস্ত। সেই সাথে নতুন কোন লেখাও শেয়ার করতে পারছি না আপনাদের সাথে। তবুও ইচ্ছা থাকলেই তো উপায় হয় তাই নাহ? আপনারা জানেন আমি বেশ অনেকগুলো স্বাস্থ্য নিয়ে লিখেছি। তো মনে করলাম শুধু ডাক্তার ডাক্তার ভাব নিলেই তো চলবে না। একটু সবাইকে আজ না হয় একটু হাসিয়েই ছাড়ি.. হেহে কি বলেন? তাই তো আমার আজকের এই পোষ্টটা লেখা। তবে মজার ব্যাপার হলো এটা মোনালিসাকে নিয়ে। আসলে আজ নেটে ঘুরতে ঘুরতে দারুন একটা আইডিয়া পেয়ে গেলাম। আমি এই পোষ্টে বিখ্যাত চিত্রকর্ম মোনালিসার বেশ কিছু রূপ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। তবে আগেই বলে রাখছি "এই পোষ্টটা শুধু মাত্র মজার জন্য। কাউকে হার্ট করার উদ্দেশ্য পোষ্টি করা হয়নি। অথবা মোনালিসাকে অপমান করার জন্যও এই পোষ্টা করা হয় নি। নেটে দেখলাম আর ইচ্ছা হলো শুধু আমি হাসবো কেন? সবারই তো হাসার অধিকার আছে তাই নাহ? যদি কারো আপত্তি থাকে তাহলে জানাতে পারেন। আর হ্যা এই সব ছবির পেছনে আমার কোন হাত নেই। আরে ভাই আমি তো শুধু দর্শক। আপনার মতো :) হিহি .. মোনালিসা সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবুও যারা আমার মতো কম বোঝেন তাদের জন্য হালকা পাতলা কিছু বর্ণনা দিলামঃ আর হ্যা ভাই এটাতে আমায় সাহায্য করেছে উইকি মামা :)

মোনালিসা কে?

মোনালিসা
মোনালিসা একটি বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্ম। ইতালীর শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৬ শতকে এই ছবিটি অংকন করেন। ধারণা করা হয়, বিখ্যাত এই ছবিটি মোনা লিসার দ্বিতীয় পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ স্মরণে অঙ্কিত হয়। অনেক শিল্প-গবেষক রহস্যময় হাসির এই নারীকে ফ্লোরেন্টাইনের বণিক ফ্রান্সিসকো দ্য গিওকন্ডোর স্ত্রী লিসা গেরাদিনি বলে সনাক্ত করেছেন। শিল্পকর্মটি ফ্রান্সের ল্যুভ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। মূলত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ১৫০৩ থেকে ১৫০৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে একটি পাইন কাঠের টুকরোর ওপর মোনা লিসার এই ছবিটি আঁকেন। চিত্রকলার ইতিহাসে এই চিত্রকর্মটির মতো আর কোনটি এত আলোচিত ও বিখ্যাত হয়নি। এর একমাত্র কারণ মোনা লিসার সেই কৌতূহলোদ্দীপক হাসি যা পরবর্তীতে বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বর্তমানে এটি প্যারিস শহরের ল্যুভ জাদুঘরে রাখা আছে। এটি ছিল শিল্পীর সবচেয়ে প্রিয় ছবি এবং তিনি সবসময় এটিকে সঙ্গেই রাখতেন।

এবার আসুন মোনালিসার মজার কিছু রূপ দেখিঃ



 


 
সা"]

আর সব শেষে : বাংলার বধু সেজে মোনালিসা


কেমন লাগলো বলুন তো? যদি আপনাদের মজা লাগে তাহলে আমার পরিশ্রম সার্থক :)
- মোঃ আব্দুর রহিম
আরো পড়ুনঃ
»» Read more

Saturday, May 26, 2012

টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি - প্রাথমিকভাবে শুরু কেবল ঢাকায় !

আগামী জুলাই মাসে প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে তিন লাখের বেশি গ্রাহককে তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রি-জি) মোবাইল ফোন সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব অপারেটর টেলিটক। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবর রহমান জানান, শুরুতে বিভাগীয় শহরগুলোতে থ্রি-জি সেবা চালুর কথা থাকলেও প্রাথমিকভাবে কেবল রাজধানীতেই এ সেবা উম্মুক্ত করা হবে। “আমরা প্রথমে শুধুমাত্র রাজধানীর গ্রাহকদের জন্য থ্রিজি সিম সরবরাহ করব।” অন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে কবে নাগাদ এই সেবা পৌঁছাবে জানতে চাইলে মুজিবর আশা প্রকাশ করেন, অক্টোবরের মধ্যেই হয়তো বিভাগীয় ও বড় শহরগুলোর মানুষ তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল সেবা পেয়ে যাবেন।


টেলিটক ঢাকার পরপরই চট্টগ্রামে এই সেবা চালু করবে বলে মুজিবর রহমান জানান। “রাজধানীতে এই সেবা দিতে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নেওয়া চলছে। এ কাজ শেষ হওয়া মাত্র আগামী জুলাই মাসে থ্রিজি সিম গ্রাহকদের দেওয়া হবে।” শুরুতে রাজধানীতে তিন থেকে ৫ লাখ গ্রাহককে থ্রিজি সিম দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এই লক্ষে টেলিটকের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে মুজিবর রহমান বলেন, “শুধু থ্রি-জির জন্য সারা দেশে ৭০০ বিশেষ বিটিএস স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিটিএসগুলো বসানো হয়েছে। এখন সুইচিং এর কাজ চলছে।” বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ জানিয়ে মুজিবর বলেন, জুলাই মাসের পর এই সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হবে বলে তারা আশা করছেন। “টেলিটক থ্রিজি নিয়ে আসলে আমাদের গ্রাহক সংখ্যাও বাড়তে শুরু করবে।”


থ্রি-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে উচ্চ গতিতে তথ্য পরিবহন সম্ভব বলে মোবাইল ফোনেই টিভি দেখা, জিপিএসের মাধমে পথ নির্দেশনা পাওয়া, উচ্চ গতির ইন্টারনেট ব্যবহারসহ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেওয়া সম্ভব। রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান হিসেবে টেলিটক অন্য অপারেটররা বাজারে আসার আগেই গত মার্চ থেকে পরীক্ষামূলক থ্রি-জি সেবা দেওয়ার অনুমতি পায়। তবে নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়।

এই সেবা চালু করতে এতো বেশি সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে মুজিবর বলেন, নতুন এই প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে বেশি সময় লাগছে। থ্রিজি লাইসেন্সের জন্য প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বরে থ্রিজি তরঙ্গের (স্পেক্ট্রাম) নিলাম হবে। টেলিটককে এই নিলামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না হলেও নিলামের সম পরিমাণ টাকা দিয়েই তরঙ্গ নিতে হবে। বর্তমানে টুজি মোবাইল সেবাদানকারী বেসরকারি অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, সিটিসেল, এয়ারটেল ও রবির পাশাপাশি নতুন বিদেশি প্রতিষ্ঠানও থ্রিজি নিলামে অংশ নিতে পারবে।

সূত্রঃ বিডিনিউজ২৪
»» Read more

Thursday, May 24, 2012

টোকিও : স্কাই ট্রি

undefined


আরও একবার নিজেদের প্রযুক্তি আর শক্তির দাপট দেখালো জাপান। দেশের মাটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাওয়ার ‘দি টোকিও স্কাই ট্রি’ উন্মুক্ত করা সম্মনের দিক থেকে এগিয়ে গেল তারা । সকালে ফিতা কেটে ৬৩৪ মিটার উচ্চু ‘দি টোকিও স্কাই ট্রি টাওয়ারের’ শুভ উদ্বোধন করেন জাপানের টোবু রেলওয়ের কোম্পানি প্রেসিডেন্ট। এ সময়, বেজে ওঠে জাপানের ঐতিহ্যবাহী ড্রাম। চার’শ ৫০ তলা এই টাওয়ার ঘুরে দেখতে ভীড় জমায় ছোট থেকে বড় সব বয়সী। কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, চলতি বছরে তিন কোটিরও বেশি দর্শনার্থী টাওয়ারটি পরিদর্শন করবেন।
»» Read more

বিশ্বের আলোচিত যত গোয়েন্দা সংস্থা - ২য় পর্ব

undefined


যেকোনো দেশের জাতীয় প্রতিরক্ষার অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার হলো গোয়েন্দা সংস্থা। ল্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দিতে আগ্রাসী গুপ্তচরবৃত্তি প্রাথমিক অস্ত্র। তবে কোন গোয়েন্দা সংস্থা কী কাজ করছে বা তাদের ভেতরের অবস্থা কেমন, সেটা জানা সহজ নয়। সেরা গোয়েন্দা সংস্থা নির্ধারণ করা আসলেই খুবই কঠিন কাজ। এসব সংস্থার প্রকৃতি এমনই যে তাদের সাফল্য অর্থাৎ বছরের পর বছর তাদের কার্যক্রম লোকচুর অন্তরালেই থাকবে। তাদের ব্যর্থতা কিংবা বিতর্কিত কার্যক্রমই মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়। এটা একটা ধন্যবাদশূন্য কাজ। তারপরও যতটুকু জানা যায়, তার আলোকে কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার দতা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে বলে নেয়া ভালো, সবটাই অপূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে।
বিএনডি (জার্মানি)
undefined

প্রতিষ্ঠা : ১ এপ্রিল, ১৯৫৬, জনশক্তি : ৬,০৫০। এজেন্সি নির্বাহী : গেহলেন অরগানাইজেশন। প্যারেন্ট এজেন্সি : সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স গ্র“প
জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম বুন্দেসন্যাচরিচটেনডিয়েনস্ট। একে নিয়ন্ত্রণ করে চ্যান্সেলরের অফিস। বিদেশে জার্মান স্বার্থের প্রতি হুমকির ব্যাপারে তারা সরকারকে আগাম সতর্ক করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। টেলিফোনে আড়িপাতা ও ইলেকট্রনিক পর্যবেণের মাধ্যমে তারা কাজ করে। তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, ডব্লিউএমডি বিস্তার, প্রযুক্তির সব ধরনের অবৈধ হস্তান্তর, সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ, অস্ত্র ও মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং, অবৈধ অভিবাসন ও তথ্য যুদ্ধের মতো বিভিন্ন েেত্র কাজ করে। তারা বৈদেশিক গুপ্তচরবৃত্তিতে জার্মানির একমাত্র গোয়েন্দা সংস্থা হওয়ায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় ধরনের গুপ্তচরবৃত্তিতেই নিয়োজিত থাকে।
জার্মানির নামী সংবাদ সাময়িকী Der Spiegel জানায় যে, পত্রিকাটির সাংবাদিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করে সাংবাদিকরা- যাঁদেরকে রিক্রুট করে জার্মনির ফেডারেল গুপ্তচর সংস্থা- BND ৷ খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর জার্মানিতে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয় ৷ কিন্তু তা সত্বেও বার্লিন সরকার সংস্থার বর্তমান প্রধান

Ernst Uhrlau এবং তাঁর পূর্বসূরী আগুস্ট হানিং এর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে৷
জার্মান সরকারের সহকারী মুখপাত্র টমাস শ্টেগ গতকাল বার্লিনে বলেন, উরলাউ এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্র-সচিব হানিং এর ওপর রয়েছে সরকারের পূর্ণ আস্থা৷ তবে এই ঘটনার ওপর গোপন রিপোর্ট প্রকাশের পরিকল্পনাটি সমালোচিত হচ্ছে৷ সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াই এ গুপ্তচর সংস্থার তত্ পরতা বিষয়ক মধ্যস্থতা কমিটির চেয়ারম্যান জিগফ্রিড কাউডার সাবধান করে দিয়ে বলেন, এতে বিএনডি এর ক্ষতি হতে পারে৷
জার্মানির কোয়ালিশন সরকারের ক্ষুদ্র শরীক দল সিএসইউ এর হান্স-পেটার উল বলেন, সংস্থা যদি সহ-সাংবাদিকদের ওপর গুপ্তচর-বৃত্তি চালানোর জন্য সাংবাদিক রিক্রুট করে থাকে তাহলে তা হল আইন বিরোধী এবং সংবিধান পরিপন্থী৷ তিনি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান৷ সবুজ দলের হান্স-ক্রিশ্চিয়ান শ্ট্রবেলেও ঘটনাটি সঠিকরূপে পরীক্ষা করার আহ্বান জানান৷
সংবাদ সাময়িকী Der Spiegel লিখেছে, একাধিক যুদ্ধাঞ্চলে কাজ করেছে এমন একজন ফ্রিলান্স সাংবাদিক বিএনডিকে তথ্য সরবরাহ করেছে আর একটি সংবাদ সাময়িকী ফোকুস এর সাংবাদিকদের সম্পর্কে৷
এদিকে, জার্মানির বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা- বিএনডি স্বীকার করেছে যে, তারা ভুল করেছে৷ এতে পরোক্ষভাবে এটাই প্রমাণিত হল যে, সংস্থাটি জার্মান সাংবাদিকদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করেছে সহ-সাংবাদিক রিক্রুটের মাধ্যমে৷ বিএনডি এর সাবেক প্রধান ফল্কার ফ্যোর্টশও স্বীকার করেছেন যে, মাঝে মাঝে সাংবাদিকদের ব্যবহার করা হয়েছে ইনফর্মার হিসেবে৷
জার্মানির কিছু প্রভাবশালী পত্রিকার সাংবাদিকরাও স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা বিএনডি এর জন্য কাজ করেছেন এবং তথ্য পাচার করেছেন অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিকদের সম্পর্কে৷
সাংবাদিকদের গুপ্তচর বৃত্তির কাজে লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা জার্মানিতে রাজনৈতিক আলোড়ন তুলেছে৷ স্পর্শকাতর এই ঘটনাটি হল জার্মানির যুদ্ধোত্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার অথবা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার লংঘন৷

ডিজিএসই (ফ্রান্স)
প্রতিষ্ঠা : ২ এপ্রিল, ১৯৮২, পূর্ববর্তী সংস্থা : বৈদেশিক তথ্য সংগ্রহ এবং গুপ্তচরবৃত্তি চালানো, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী : গেরাল্ড ল্যাঙ্গুয়েট, প্রতিরা মন্ত্রণালয়
এজেন্সি নির্বাহী : ইরার্ড করবিন ডি ম্যানগ্রক্স, পরিচালক
ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম ডাইরেক্টরেট জেনারেল ফর এক্সটারনাল সিকিউরিটি (ডিজিএসই)। সংস্থাটি ফ্রান্সের প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বিদেশে গুপ্তচরবৃত্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা, বিশেষ করে আধা সামরিক ও প্রতিপরে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা ডিসিআরআইয়ের (দ্য সেন্ট্রাল ডাইরেক্টরেট অব ইন্টেরিয়র ইন্টেলিজেন্স) পাশাপাশি কাজ করে। ইউরোপের অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় ফ্রান্সের ডিজিএসইর ইতিহাস অনেক সংপ্তি। দেশটির কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা সদস্যদের নিয়ে ১৯৮২ সালে এটি গঠিত হয়। দেশের সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে বিদেশী সূত্র থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই তাদের প্রধান কাজ। সংস্থাটিতে পাঁচ হাজারের বেশি লোক কাজ করে।
আরএডব্লিউ (ভারত)
প্রতিষ্ঠা : ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৮
সদর দফতর : নয়াদিল্লি, ভারত
এজেন্সি নির্বাহী : সঞ্জীব ত্রিপাঠি, সচিব
প্যারেন্ট এজেন্সি : প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
ভারতের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র)। স্বাধীনতার অল্প পরেই ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধ এবং ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের প্রোপটে ১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়। ওই দু’টি যুদ্ধেই প্রমাণিত হয় যে, দেশটির নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যে মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। সংস্থাটির প্রধান কাজ হলো বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং গোপন অভিযান পরিচালনা। এ ছাড়া ভারতীয় পররাষ্ট্র নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দিতে বিদেশী সরকার, সংস্থা ও ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণও তাদের দায়িত্ব। র সৃষ্টির আগে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) একাই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক গুপ্তচরবৃত্তির কাজটি করত।
এএসআইএস (অস্ট্রেলিয়া)
প্রতিষ্ঠা : ১৩ মে, ১৯৫২, সদর দফতর : ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া, বার্ষিক বাজেট : ১৬২.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (২০০৭), দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী : স্টিফেন স্মিথ এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এজেন্সি নির্বাহী : নিক ওয়ার্নার, মহাপরিচালক।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নাম অস্ট্রেলিয়ান সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস। এই সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে বৈদেশিক গুপ্তচরবৃত্তি, প্রতিপরে গুপ্তচরবৃত্তি সম্পর্কে খোঁজখবর রাখা এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সহযোগিতা করা। এর মূল কাজ প্রধানত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় গুপ্তচরবৃত্তি চালানো। বিশাল এলাকাজুড়ে তাদের এজেন্ট রয়েছে।

পাকিস্তান ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স_সংক্ষেপে আইএসআই।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা। উপমহাদেশের অঘটনঘটনপটীয়সী হিসেবে পাকিস্তানে নন্দিত এবং বহির্বিশ্বে নিন্দিত। অনেক ষড়যন্ত্র-দুর্ঘটনার কথা উঠলেই তর্জনী সংকেত নির্দেশ করে এ সংস্থাকে। পরিবারের অবাধ্য সদস্যের মতো। পরিবারের মধ্যে অবস্থান করে এবং পরিবারে খেয়েও পরিবারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, অন্য সদস্যদের হত্যা করে। বহির্দেশের কথা তো ভিন্ন। উপমহাদেশের কূটিল ষড়যন্ত্র, ক্যু, গুপ্তহত্যা, জঙ্গি তৎপরতার পৃষ্ঠপোষক ও সহায়ক আইএসআই। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি হত্যা-নির্যাতন, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিবেশে গুপ্তচর অনুপ্রবেশ করানো, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র প্রেরণ, কাশ্মীরী যোদ্ধাদের সক্রিয় সহায়তা দেওয়া, বাংলাদেশে 'মুসলিম বাংলা' ব্লুপ্রিন্টের প্রণেতা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালনকারী, বাংলাদেশে ক্যু-বেআইনি শাসন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া, বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়ন-প্রশিক্ষণ, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা শাসন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় সহায়তা দেওয়া, বাংলাদেশে জঙ্গি অর্থায়ন-প্রশিক্ষণ, আফগানিস্তানে আল-কায়েদা শাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রতিপালন, খোদ পাকিস্তানে সামরিক শাসন ও জঙ্গি তৎপরতার মদদদাতা এই আইএসআই। সম্প্রতি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাষ্যে এখনো আল-কায়েদার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা এবং লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার কথা উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রেও এ চরিত্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। সিআইএ নামের সংস্থাটি বিশ্বে বহুল সমালোচিত। ১৮ বার ফিদেল কাস্ত্রোর প্রাণনাশের চেষ্টাসহ বহু রাষ্ট্রনায়ক হত্যায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ রয়েছে সিআইএর বিরুদ্ধে। সিআইএর কয়েকজন সাবেক অধিনায়ক এসব কথা বলেছেন।
অতিসম্প্রতি বিশ্বসংস্থা জাতিসংঘ বেনজির হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে রাখঢাক না করেই বলা হয়েছে, বেনজির হত্যার বিষয়টি পাকিস্তানের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের জানা ছিল। ফলে সেনা, পুলিশ, গোয়েন্দা_সবাই দূরে দূরে সরে ছিল। দায়িত্ব পালন করেনি। দায়িত্ব পালনের চেষ্টাও করেনি। নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করলে হত্যাক্যাণ্ড এড়ানো সম্ভব ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়েছে প্রতিবেদনে। একই কারণে অর্থাৎ সরকারি সংশ্লিষ্টতার জন্য তদন্তে অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষণ করলে অর্থ দাঁড়ায়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল মোশাররফ বেনজিরের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাঁকে হত্যা করিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র কার্যকর করার দায়িত্বে থাকে গোয়েন্দা সংস্থা। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই আইএসআই। রাষ্ট্রের অবাধ্য এ সংস্থার ওপর বৈধ সরকারের তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। কারণ, সংস্থার মধ্যে ষড়যন্ত্রের এজেন্টরা অর্থ-প্রতিপত্তির বিনিময়ে এমনভাবে প্রবিষ্ট থাকে যে তাদের শনাক্ত করা কষ্টকর। বহিষ্কার করা আরো দুষ্কর। কার্যত এরাই সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করে।
মজার ব্যাপার হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বসংস্থা আজ এসব কথা উচ্চারণ করলেও, আইএসআইর দৈত্যরূপ গ্রহণের অর্থদাতা, প্রশিক্ষণদাতা ও সহায়ক শক্তি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ। আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীকে পর্যুদস্ত করার জন্য আইএসআইকে সম্পূর্ণভাবেই ব্যবহার করেছে সিআইএ। পাকিস্তানের আঞ্চলিক দানব হিসেবে সজ্জিত করেছে সিআইএকে। মানব থেকে দানবে রূপান্তর সম্ভব হলেও, দানব থেকে মানবে রূপান্তর সম্ভব নয়। তাই আইএসআই দানবই রয়ে গেছে। বিপুল হিংস্র ক্ষুধার তাড়নায় খোদ পাকিস্তানকেই খেয়ে ফেলতে উদ্যত। এ দানবের প্রতিটি লোমকূপ থেকে জঙ্গির জন্ম। জঙ্গি আক্রমণে পাকিস্তান আজ বিধ্বস্ত। এমন একটি দিনও যায় না, যেদিন পাকিস্তানের কোনো না কোনো স্থানে জঙ্গি হামলা বা গুলি-বিস্ফোরণে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি না ঘটে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও আক্রান্ত হচ্ছে জঙ্গিদের দ্বারা। শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে ভূত তাড়াবে কে? যুক্তরাষ্ট্রের বোধোদয় ঘটেছে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হওয়ার পর। এখন জঙ্গিরোধে তারা আফগানিস্তানে হাজির। পাকিস্তানেও হাজির। যুক্তরাষ্ট্র হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, ফ্রাঙ্কেনস্টাইন বানানো কঠিন কিছু নয়_কিন্তু বশে আনা, বশে রাখা ও নিয়ন্ত্রণ করা অসাধ্য কাজ। ধ্বংস করাও দুঃসাধ্য। এ জন্যই বাঙালি মনীষীরা বলেছেন, 'ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।' মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অপকর্মের জন্য আরো কতকাল এবং কত বেশি খেসারত দিতে হবে, তা ভুক্তভোগী বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করতে থাকবে। আইএসআইকে বশে আনার অনেক চেষ্টাই পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক সরকার করেছে এবং করছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ছিল : (ক) প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা, (খ) সেনাবাহিনীর মধ্যে গোয়েন্দাগিরির কাজকেই তাদের মুখ্য কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, (গ) কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স জোরদার করা, (ঘ) আইএসআইর ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব পরিবর্তন করে, অভ্যন্তরীণ সংস্কার আনা। কিন্তু পদক্ষেপগুলো কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সেই সঙ্গে সিআইএ তাদের ছত্রছায়া অনেকটাই তুলে নিয়েছে জঙ্গি তৎপরতার কর্মে। তার পরও মার্কিন কর্তৃপক্ষের প্রকাশ্য ধারণা, আইএসআই এখনো জঙ্গি মদদদাতার ভূমিকা থেকে মুক্ত নয়।
»» Read more

বিশ্বের আলোচিত যত গোয়েন্দা সংস্থা - ১ম পর্ব

undefined



গোয়েন্দা সংস্থার ইংরেজি নাম হলো intelligence agency। এটি মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত সরকারি সংস্থা। এটি আইন প্রয়োগ, জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণ, সামরিক প্রতিরোধে ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়নে সরকারকে সহায়তা করে। আর সে জন্য দরকারি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা ও প্রয়োগ করে। সরাসরি কিংবা গোপনীয় অথবা নানা উপায়ে এরা তথ্যাদি সংগ্রহ করে থাকে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি সংশ্লিষ্ট গবেষণার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক তথ্যাদি সংগ্রহে নিযুক্ত থাকে। কিছু কিছু গোয়েন্দা সংস্থা গুপ্তহত্যা, সামরিক অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিটি দেশের জন্যই গোয়েন্দা সংস্থা এক বড় অস্ত্র। কোন গোয়েন্দা সংস্থা কেমন বা কার কাজ কি তা জানা অনেক কষ্টের। আর তাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর র্যাংকিং করাও সহজ নয়। তারপরও বছরের পর বছর আলোচনা-সমালোচনা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কথা তুলে ধরা হলো এখানে। বিস্তারিত লিখেছেন- রণক ইকরাম



মোসাদ, ইসরায়েল

মোসাদকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ ও দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। ১৩ ডিসেম্বর ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ইংরেজি নাম হচ্ছে (Institute for Intelligence and Special Operations)। বিশ্বজুড়ে 'মোসাদ'কে ঘিরে সবচেয়ে বেশি রহস্যজনক ও চাঞ্চল্যকর গল্প চালু আছে। হিটলারের নাৎসি বাহিনীর হাতে প্রায় ৬০ লাখ ইহুদির মৃত্যুর পর বিশ্বের ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিজস্ব রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নের প্রকল্পে শামিল হয়েছিল। ইহুদি, খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্মের কাছে 'পবিত্র ভূমি' বলে পরিচিত বৃহত্তর প্যালেস্টাইনকেই তারা বেছে নিয়েছিল নতুন এই বাসভূমির জন্য। নাৎসিদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে ইহুদিদের সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতো। এই জায়নিস্ট আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে শুরু থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে আসছে ইসরায়েল। ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে যে কোনো পদক্ষেপ নিতে শুরু থেকেই প্রস্তুত ইহুদি এই রাষ্ট্র। আর এ কাজে ভয়াবহভাবে ব্যবহৃত হয় ইহুদিদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। কিন্তু নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করতে ইসরায়েল যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে এসেছে, তাকে ঘিরে বিতর্কের কোনো শেষ নেই।

ভয়ঙ্কর গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কর্মী সংখ্যা কত তার পরিসংখ্যান কেউ জানে না। তবে ধারণা করা হয় এর কর্মী সংখ্যা কম করে হলেও ১২০০ হবে। এর সদর দফতর ইসরায়েলের তেলআবিবে। সংস্থাটির জবাবদিহিতা দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সংস্থার বর্তমান প্রধান তামির পারদো। মোসাদের প্রধান বিচরণ এলাকা বলতে কিছু নেই। বলা হয়ে থাকে, এদের নেটওয়ার্ক সমগ্র বিশ্বেই বিস্তৃত।

মোসাদের দায়িত্ব এতটাই বিশাল যে, সম্পূর্ণ বর্ণনা কঠিন। সাধারণভাবে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতি-নির্ধারণে সহায়তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ, গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় বড় করপোরেশনের নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ। মোসাদের এই কাজের বাজেটও কারও জানা নেই।

মোসাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এমএসএস, এফএসবি, এমআইএসআইআরআই, হিজবুল্লাহ, হামাস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের বিখ্যাত অপারেশনগুলো হচ্ছে আর্জেন্টিনায় আইখম্যান হান্ট ১৯৬০, হেবাররত চুকারস হত্যা ১৯৬৫, অপারেশন ডায়মন্ড ১৯৬৩-৬৬, ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ, অপারেশন জেরাল্ড বুল কিলিং ১৯৯০, আতেফ বেইসো হত্যা ১৯৯২, মোহাম্মদ আল মাবহু হত্যা, ২০১০। মোসাদের মোটো হচ্ছে : Where there is no guidance, a nation falls, but in an abundance of counselors there is safety.



এমআই সিক্স, যুক্তরাজ্য

সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এমআই৬ যুক্তরাজ্য সরকার তথা ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের বৈদেশিক গুপ্তচর বিভাগের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা হিসেবে এমআই৫, সরকারি যোগাযোগের প্রধান দফতর বা জিসিএইচকিউ, প্রতিরক্ষা সংস্থা বা ডিআইয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। যুক্তরাজ্যের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটি বা জিআইসি'র নিয়ন্ত্রণে থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে কাজ করে সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস।

এটা বার বার এমআই৬ নামে গণমাধ্যমে উল্লেখ হতে থাকে। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যখন সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস নামটি বহুনামে উল্লেখ হয়, তখন এমআইসিক্স নামকরণটি নিশ্চিত হয়ে যায়।[১] ১৯৯৪ সালের আগ পর্যন্ত এমআই৬ নামটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়নি ও স্বীকৃত ছিল না। সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস বা এসআইএস বা এমআই৬ বর্তমানে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে গুপ্তচরের প্রধান ভূমিকা পালনে সক্ষম।

১৯০৯ সালে উইলিয়াম মেলভিল নামক সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর এক কর্মকর্তা সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা।[১] দফতরটি নৌ-সেনা বিভাগ এবং যুদ্ধ অফিসের যৌথ উদ্যোগে গ্রেট ব্রিটেন ও বিদেশের মধ্যে গোয়েন্দা অভিযানের দায়িত্ব নিয়োজিত ছিল। এটি বিশেষ করে জার্মান সাম্রাজ্যের কার্যকলাপের ওপরই সবিশেষ মনোযোগ দিয়েছিল। ব্যুরো বা দফতরটি নৌ এবং সেনা- এ দুই বিভাগে বিভাজন করা হয়েছিল। এগুলো হলো : বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং অভ্যন্তরীণ গুপ্তচরবৃত্তি। এই বিভাজনের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল নৌ-সেনা বিভাগ। তারা জার্মান সাম্রাজ্যের নৌবাহিনীর সামরিক শক্তিমত্তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী ছিল। এই বিশেষায়ন ১৯৪১ সালের আগেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সৃষ্টি করা হয়েছিল।

যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, দুটি শাখাই প্রশাসনিকভাবে রূপান্তরিত হয়ে ডাইরেক্টরেট অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স সেকশন ৬ (এমআইসিক্স) হয়ে যায়। এ নামই বর্তমানকালে সাধারণ নাম হয়ে এমআই ৬ হিসেবে সর্বসাধারণ্যে পরিচিতি পেয়ে আসছে। সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস সংস্থাটির ভবনের অঙ্গসজ্জা জেমস বন্ড চলচ্চিত্রের গোল্ডেনআই, দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ এবং ডাই এনোদার ডে ছবিতে দেখানো হয়েছে। এমআইসিক্স প্রথমবারের মতো ভবনের অঙ্গসজ্জা জেমস বন্ড সিরিজের 'দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ' চলচ্চিত্রে প্রদর্শনের অনুমতি প্রদান করে। ওই চলচ্চিত্রে ভবনের অভ্যন্তরে ব্রিফকেস পরিপূর্ণ টাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর দৃশ্য ধারণ করা হয়।

এমআই সিঙ্ গঠিত হয় ১৯০৯ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরো নামে। এর সদর দফতর : ভাউঙ্ হলো ক্রস, লন্ডন-এ। এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হচ্ছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ। আর সংস্থা প্রধান : স্যার জন সারোয়ার্স। এটির মূল দায়িত্ব হচ্ছে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, বন্ধুভাবাপন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, দেশ ও মিত্রদের অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থ রক্ষায় গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনা। এমআই৬ এর বিখ্যাত এজেন্ট জেমস বন্ড। আর এর বিখ্যাত অপারেশন অপারেশন কাপকেক।



সিআইএ, যুক্তরাষ্ট্র

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ইংরেজি : Central Intelligence Agency) (CIA), যা সিআইএ নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের আওতাধীন একটি বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা। এটি একটি স্বাধীন সংস্থা, যার দায়িত্ব্ব যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারকদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা। দ্বিতীয় বিশ্বযদ্ধকালীন গঠিত অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস (OSS)-এর উত্তরসূরি হিসেবে সিআইএর জন্ম। এর কাজ ছিল যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করা। ১৯৪৭ সালে অনুমোদিত হওয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে সিআইএ গঠন করা হয়, যাতে বলা হয়, 'এটি কোনো পুলিশ বা আইন রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান নয়, দেশে কিংবা বিদেশে যেখানেই কাজ করুক না কেনো।' সিআইএ'র প্রাথমিক কাজ হচ্ছে বিদেশি সরকার, সংস্থা ও ব্যক্তিদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা জাতীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে তা সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করা। সিআইএ এবং এর দায়বদ্ধতা ২০০৪ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০৪-এর ডিসেম্বরের পূর্বে সিআইএ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোযন্দো সংস্থা; এটি শুধু নিজের কর্মকাণ্ডই নয়, বরং অন্য গোয়ন্দো সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করত। কিন্তু ২০০৪ সালে অনুমোদিত ইন্টেলিজেন্স রিফর্ম অ্যান্ড টেররিজম প্রিভেনশন অ্যাক্ট, ২০০৪ দ্ব্বারা তা পরিবর্তিত হয়।

সিআইএ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। এর কর্মীসংখ্যা অজ্ঞাত। তবে অনুমানিক এই সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হতে পারে। এর সদর দফতর ল্যাংলি, ভার্জিনিয়ার জর্জ বুশ সেন্টার ফর ইন্টেলিজেন্সে। এর জবাবদিহিতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে। সিআইএ'র বর্তমান সংস্থা প্রধান ডেভিড পেট্রাউস। বর্তমানে সিআইএ'র বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে : মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগ MENA, দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ OSA, রাশিয়ান ও ইউরোপিয়ান বিভাগ OREA, এশিয়া প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকা বিভাগ (APLAA)।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র কাজের পরিধিও সুবিশাল। সাধারণভাবে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বৈদেশিক নীতিনির্ধারণে সহায়তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, ক্ল্যান্ডেস্টাইন অপারেশন পরিচালনা, ড্রোন আক্রমণ, গুপ্ত কারাগার পরিচালনা, বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলোর নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ। সিআইএ'র ঘোষিত বাজেটের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর প্রধান বিচরণ এলাকা সমগ্র সৌরজগৎ। আর সিআইএ'র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী : এমএসএস, এফএসবি, আল-কায়েদা। সিআইয়ের বিখ্যাত অপারেশনের মধ্যে রয়েছে বে অব পিগস হামলা, বিন লাদেন হত্যা, অপারেশন ফোনিক্স (ভিয়েতনাম), অপারেশন গ্লাডিও প্রভৃতি।



এমএসএস, চীন

চীনের গোয়েন্দা সংস্থা গওজিয়া অ্যাংকেন বু অথবা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটি। এটি বিশ্বজুড়ে এমএসএস (MSS) নামে পরিচিত। চীনা এমএসএসের অনেক কিছুই সাধারণ মানুষের অজানা। আর এর কর্মী সংখ্যা পৃথিবীর সব গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি বলে ধারণা করা হয়। ২০০৫ সালে দলত্যাগী দুজন চীনা এজেন্ট থেকে জানা গেছে, শুধু অস্ট্রেলিয়ায়ই এমএসএস'র এক হাজার ইনফর্মার আছে। এমএসএসের সদর দফতর চীনের রাজধানী বেইজিং-এ অবস্থিত। এর জবাবদিহিতা স্টেট কাউন্সিল অব চায়নার কাছে। এমএসএসের সংস্থা প্রধান জেং হুই চ্যাং। তিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমএসএস সর্বমোট ১২টি ব্যুরোতে বিভক্ত। এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি, শত্রু এজেন্টদের সন্ধান, কাউন্টার রেভিউল্যুশনারি কার্যক্রম দমন, সাইবার ওয়ারফেয়ার পরিচালনা, নতুন প্রযুক্তি সংগ্রহ, বিশ্বের বড় করপোরেশনগুলোর নীতিনির্ধারণের চেষ্টা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্পিওনাজ।

এমএসএসের প্রধান বিচরণ এলাকা ম্যাকাও, হংকং, তাইওয়ান, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম ইউরোপ, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকা ও সারা দুনিয়ার চাইনিজ বংশোদ্ভূত জনগণ। এমএসএসের অনেক নামকরা এজেন্ট রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ল্যারি উ তাইচিন, ক্যাট্রিনা লেউং, পিটার লি, চি মাক, কো সুয়েন মো। ১৯৯৬ সালে এফ-১৫, বি-৫২সহ বহু সামরিক প্রযুক্তি পাচারের অভিযোগে ডং ফ্যাং চ্যু নামে বোয়িং কোম্পানির এক ইঞ্জিনিয়ার ধরা পড়েন। ধারণা করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউকে, কানাডা, ইউরোপ, ভারত, জাপানে আন-অফিশিয়াল কাভারে যেমন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, খেলোয়াড়, ব্যাংকার, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ হিসেবে কমপক্ষে ১২০ জন এমএসএস কর্মী অবস্থান করছেন। এমএসএসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হয় সারা দুনিয়ার বেশিরভাগ গোয়েন্দা সংস্থাকেই।



এফএসবি, রাশিয়া

এফএসবির মূল নাম ফেডারেলনায়া সুলঝবা বেজপাসনোস্তি রাশিস্কয় ফেডেরাটসি। সংক্ষেপে এটি এফএসবি নামে পরিচিত। এটি স্থাপিত হয় ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল। তবে এত অল্প বয়স দিয়ে এফএসবির কার্যকারিতার প্রভাব ও ভয়াবহতার কথা মোটেও অনুমান করা যাবে না। অনুমান করতে হবে এর পূর্বসূরি সংস্থার কথা মাথায় রেখে। রাশিয়ার বর্তমান গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির

পূর্বসূরি ছিল দুনিয়া কাঁপানো গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি। আর কেজিবিরও আগে এর নাম ছিল চেকা। এফএসবির কর্মী সংখ্যা আনুমানিক ৩,৫০,০০০।

এফএসবির সদর দফতর রাশিয়ার মস্কো শহরের ল্যুবিয়াঙ্কা স্কোয়ারে। এর জবাবদিহিতা প্রেসিডেন্ট রাশিয়ান ফেডারেশন।

এফএসবির সংস্থা প্রধান মিখায়েল ফার্দকভ। এফএসবির সাহায্যকারী/সহকারী সংস্থার নাম গ্রু।

এফএসবির মোট ১০টি বিভাগ রয়েছে।

এফএসবির মূল দায়িত্ব বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পরিচালনা, গুপ্তহত্যা, বর্ডার সার্ভেইল্যান্স, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, কাউন্টার টেররিজম, নিজস্ব লোক সংগ্রহ ও নেটওয়ার্ক তৈরি, বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর নজরদারি।

এফএসবির নামকরা এজেন্টের নাম আন্না চ্যাপম্যান।
»» Read more

গরমে সুস্থ থাকার উপায় !

গরমে সবাই যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, তার মধ্যে পানি স্বল্পতা (ডিহাইড্রেশন) অন্যতম। এ ছাড়া আমাশয়-জন্ডিসসহ বিভিন্ন ধরনের পেটের অসুখ তো রয়েছেই। এ সময় শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। দিনে ৬-৮ গ্লাস তো বটেই, এর বেশি হলেও ক্ষতি নেই! তবে এ সময় রাস্তাঘাটের পানীয় এড়িয়ে চলাই মঙ্গল। বাইরে বের হতে একটি ছোট ব্যাগে অবশ্যই পানির বোতল ও ছাতা রাখা জরুরি। ছাতা শুধু বৃষ্টি থেকে বাঁচতেই নয়, সূর্যের প্রখর খরতাপ থেকে ত্বক পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।


আম, কাঁঠাল, বেল, তরমুজ, বাঙ্গি, ডাব এসবই গ্রীষ্মকালীন ফল যা পানির ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি শরীরে খনিজ লবণের অভাবও দূর করে। যেমন বেলে প্রচুর পরিমাণে শর্করা থাকায় কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয়। প্রতিদিনই খাবারের তালিকায় ভিটামিন সির আধার লেবু যোগ করা উচিত। লেবুর রস ও মধু মেশানো উষ্ণ গরম পানিতে দিন শুরু করলে শরীর সারা দিনই সজীব থাকে। শরীরের অবসন্নতা দূর করতেও লেবুর শরবতের জুড়ি নেই! বীটমূল শরীরে আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করে। এ ছাড়া বীটমূলে রয়েছে ভিটামিন বি৩, বি৬, সি ও বিটা ক্যারোটিন। ফলের রাজা ‘আম’। অনেকেই মনে করেন আম খেলে পেট গরম হয়। কিন্তু এ ধারণা একদমই ঠিক নয়। ফ্যাটমুক্ত এ আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি ও তন্তু, যা শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য তরতাজা রাখতে সক্ষম। ভিটামিন ‘এ’-র আধার আম দিতে পারে জেল্লাদার ত্বক। এ ছাড়া ভিটামিন ‘এ’ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে সময়ের আগেই বুড়িয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। আমেও রয়েছে শরীরের অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিন সি, যা হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করে। কাঁচা আমের শরবত খেতে সুস্বাদু, শরীরকে সুস্থ রাখার জন্যও ভালো। তাই যত পারা যায় আম খেলে ভালো। গরমকে প্রতিরোধ করতে ডাবের পানিও মোক্ষম অস্ত্র। প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রলাইটের উত্স এ ডাবের পানি। ডাবের পানি উজ্জ্বল ত্বকের জন্য দরকার। তাই এ গরমে প্রতিদিন ডাবের পানি পান করা উচিত। শসাও গ্রীষ্মের অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি সবজি। ক্যালোরিশূন্য শসা শরীরের ইউরিক এসিড দূর করতে সাহায্য করে। এটি গরমে শরীরে উদ্ভূত নানা প্রদাহ দূর করতে সক্ষম। শসা, গাজর, বীট, লঙ্কা দিয়ে তৈরি সালাদ খেতে কার না ভালো লাগে! গরমে টক দইও খুব ভালো একটি খাবার। টক দই শরীরকে ঠাণ্ডা রাখার এক মোক্ষম উপাদান। এ গরমে কম তেল ও মসলাযুক্ত রান্না খাবার খাওয়া উচিত। এ মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া, লাউ, সজিনা ডাটা, পুঁই শাক, পাট শাকসহ আরও অনেক সবজি পাওয়া যায়। তার মধ্যে লাউ ও সজিনা ডাটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপযোগী দুটি সবজি। সজিনা ডাটা হার্টের জন্য খুবই ভালো। দুপুরের আহারে অবশ্যই অবশ্যই তিতা করলা বা উচ্ছে রাখতে হবে। তিতা শরীরে রোগ প্রতিষেধক হিসেবে তো বটেই, ত্বককে নানান প্রদাহের হাত থেকে বাঁচায়।
»» Read more

মজার কিছু বিভ্রান্তি !

১) দেখুনতো নিচের ছবিটি। কিছু বুঝলেন?




undefined



২) নিচের ছবিটির মাঝের ডট এর দিকে ৩০ সেকেন্ড একটানা তাকিয়ে থাকুন। এবার চোখ বন্ধ করুন অথবা কোনও দেয়ালে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করুন। কিছু দেখতে পান কি?

undefined



৩) লাল বৃত্তের মাঝের সাদা ডট টিতে চোখকে ফোকাস করুন। তাকিয়ে থাকুন,মাথা নাড়াবেন না । ১ মিনিট, পারলে ২ মিনিট টানা তাকিয়ে থাকুন। এবার মাথা মনিটর হতে পিছে সরিয়ে নিন, চোখ সরাবেন না। চারপাশে উজ্জ্বল নীল রং দেখতে পাচ্ছেন কি?

undefined



৪) ছবির কালো বাল্ব টির দিকে টানা ৩০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এবার চোখ সরিয়ে পাশের সাদা খালি জায়গায় তাকান। কি দেখছেন?





৫) নিচের লেখা টিকে কি স্থির মনে হয় নাকি ----------

undefined



৬) মাঝের কালো ডট টির দিকে টানা এক মিনিট তাকিয়ে থাকুন। দেখবেন চারপাশের সব রং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। undefined



অনেক সময় নষ্ট করলাম আপনাদের। তবে মজা পেয়েছেন কি?
»» Read more